ফরিদপুরের ভরত সাহার কান্না: মেয়েকে খেতেও দিত না পলাশের মা
- আপডেট সময় : ১১:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
- / 530
র্যাব কর্মকর্তা পলাশ সাহার আত্মহত্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক স্ট্যাটাসে স্ত্রী সুস্মিতা সাহাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তবে ফরিদপুর শহরের চৌধুরীপাড়ায় পলাশের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জানা গেলো ভিন্ন তথ্য। পরিবারের দাবি, পলাশের মা আরতি সাহার নির্যাতনের শিকার হতেন সুস্মিতা।
শ্বশুরবাড়ির অভিযোগ: শাশুড়ির নির্যাতনে আত্মহত্যার চেষ্টা
সুস্মিতার বাবা ভরত সাহা জানান, একমাত্র মেয়েকে ভালোবাসলেও পলাশের মা সেই সম্পর্ক সহ্য করতে পারতেন না। তার অভিযোগ, শাশুড়ির নানান অপমান ও নির্যাতনের ফলে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সুস্মিতা।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য: নিরীহ পরিবার, কষ্ট করে বড় করেছেন সন্তানদের
ভরত সাহার প্রতিবেশী চান্দু সরকার জানান, সুস্মিতার পরিবার অত্যন্ত সাদাসিধে। সৌরভ সাহা নামের ভাই কুয়েটের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হলেও বাবা ভরত সাহা সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন। চান্দু বলেন, “লোভের কারণে আমাদের মেয়েটার জীবনটা শেষ হয়ে গেলো।”
খাবারের টেবিলেই অপমান, সেই রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা
সুস্মিতার প্রতিবেশী দীপা সরকার বলেন, “তিন দিন আগে সুস্মিতা জানিয়েছিল, পলাশ তার রান্না করা ডালের প্রশংসা করেছিল। এই কথাতেই তার শাশুড়ি খাবারের টেবিলেই ডালের বাটি ছুড়ে ফেলেন। রাতেই সুস্মিতা আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং একটি ফেসবুক পোস্ট দেয়, যেটি শাশুড়ির চাপে পরে ডিলিট করতে বাধ্য হয়।”
পারিবারিক দারিদ্র্যকে দায়ী করছেন শ্বশুর
ভরত সাহা বলেন, “আমার কোনো আয় নেই। মেয়েকে ভালোভাবে দিতে পারিনি বলে আরতি সাহা সবসময় মেয়েকে নির্যাতন করতো। ওনার ধারণা ছিল ছেলেকে বিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আনবেন। কিন্তু না পেয়ে সারাদিন মেয়ে আমার গঞ্জনা শুনতো।”
সুস্মিতার ভাইয়ের বক্তব্য: পলাশ ভালো মানুষ ছিলেন, কিন্তু মা সহ্য করতেন না
সৌরভ সাহা জানান, “আমার দুলাভাই পলাশ অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। সবসময় আমাদের খবর নিতেন। কিন্তু তার মায়ের কাছে এটাও ছিল অপরাধ। দুই বছরে একবারও আমরা শ্বশুরবাড়ি যেতে পারিনি।”
বিয়ের প্রেক্ষাপট ও চিরকুট প্রসঙ্গ
সুস্মিতার চাচাতো ভাই পার্থ সাহা বলেন, “পলাশের আগ্রহেই মেয়েকে বিয়ে দেই। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতনের খবর পেতাম। তবে পলাশকে ভালো স্বামী হিসেবেই জানতাম।”
চিরকুটে পলাশ লিখে গেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না… বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায়, মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের, দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।” অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো জানতেন এই ঘটনার পর স্ত্রী কিছুই পাবে না—সেই আশঙ্কায় চিরকুটে স্পষ্ট করে লিখে গেছেন।
র্যাব অফিসে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা
গত ৭ মে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রামের র্যাব-৭ এর বহদ্দারহাট ক্যাম্পে নিজ অফিসে পলাশ সাহার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে।
অভিযোগের জবাবে আরতির প্রতিক্রিয়া মেলেনি
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পলাশের মা আরতি সাহা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





















