ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সনাকের মানববন্ধন

- আপডেট সময় : ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
- / 192

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) উদ্যোগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের সভাপতি শিপরা রায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য শিপরা গোস্বামী সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য:
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাকের সাবেক সভাপতি রমেন্দ্রনাথ রায় কর্মকার, সচেতন নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা, সনাক সদস্য মুন্নি আক্তার, অধ্যাপক মাহবুব হক, ইয়েস সদস্য জাহিদ হোসেন শান্ত, এসিজি সদস্য সাদিয়া আক্তার ও রেজাউল করিম। এসময় সংগঠনটির কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণের ঘটনাগুলো তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তারা এ ধর্ষণের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে শাস্তির দাবি করেন। তারা বলেন, “আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটলে, ধর্ষণের ঘটনা কখনোই কমবে না। আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, এখনো আমরা গড়তে পারিনি। পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা থেকে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার মূল উৎপাটিত করতে হবে। ধর্ষণের ঘটনাগুলো সুষ্ঠু বিচার হোক। ধর্ষণের ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে সেজন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমানে পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও নারীরা নিরাপদ নয়। প্রতিটি ঘরে ধর্ষণবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”
সনাকের পক্ষ থেকে ১১টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবি সমূহ নিম্নরূপ:
১. নারী ও শিশু ধর্ষণসহ সব ধরনের যৌন নির্যাতন বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ২. সকল ক্ষেত্রে ওপর্যায়ে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার ও বিদ্যমান আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে। ৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ সকল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. সকল রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন, পেশাজীবী সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরুষের সম অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ৫. টেকসই উন্নয়ন অর্জন পরিকল্পনায় ও শান্তি, ন্যায় বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ৬. নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল প্রকার নারী অধিকার হরণের ক্ষেত্রে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শ্রদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ৭. অনলাইনে সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ৮. যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে তাদের উৎসাহিত করতে হবে এবং সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। ৯. নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে। ১০. নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ১১. জাতীয় হেল্পলাইন ও অভিযোগ জানানোর হটলাইন নম্বর গুলোর প্রচার ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এই মানববন্ধনে এলাকার সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।
- সর্বশেষ সংবাদ
- জনপ্রিয় সংবাদ

























