ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 1497

ফরিদপুরে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের ঝিলটুলীর বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের চড়াও হওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় হা-মীম গ্রুপের ল্যান্ড কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফিজুল খান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার জমা দেন।

এই এজাহারে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা-সহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও অন্তত ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিস্তারিত

এজাহারে রাফিজুল খান উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীতে অবস্থিত এ. কে. আজাদের অফিস কাম বাড়িতে তিনি তার সহকর্মীদের (প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সোলাইমান হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসান, কেয়ারটেকার জালাল শেখ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল হান্নান, গৃহপরিচারিকা মাজেদা বেগম, সিসিটিভি অপারেটর সেলিম হোসেন ও সহকারী শাওন শেখ) নিয়ে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একদল ‘উগ্র সন্ত্রাসী’ হঠাৎ বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসানকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে এ. কে. আজাদের বাড়িতে ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি ও গালাগাল করতে থাকে। রাফিজুল খান কক্ষ থেকে উঠানে আসামাত্র গোলাম মোস্তফা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন– “তোর স্যার এ. কে. আজাদ যেন ফরিদপুর না আসেন। আসলে হত্যা করে লাশ পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেব। তাঁর বাড়িঘর, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যা আছে, সব ভস্ম করে দেব।” এরপর তারা জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এজাহারে নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন— জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি ক্যাপ্টেন সোহাগ।

বিএনপি ও পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বাড়িটিতে আওয়ামী লীগের গোপন সভা হচ্ছে—এই তথ্য পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। আমরা কেউ কোনো হুমকি-ধমকি দিইনি। একটি ঢিলও ছোড়া হয়নি। যিনি থানায় অভিযোগ করেছেন, তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার আহাদউজ্জামান জানান, ওসি বাইরে আছেন এবং তিনি আসার পর তাকে বিষয়টি জানানো হবে। পুলিশ সুপার এম এ জলিল জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন মহলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

এদিকে, এ. কে. আজাদের বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের চড়াও হওয়া-সহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যা-নিপীড়নের ঘটনায় বিভিন্ন দল ও জোট নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে এসব দল ও সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার বিবৃতিতে বলেছেন, “যে যুক্তিতে এ. কে. আজাদের বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীরা চড়াও হয়েছেন, তা উদ্ভট ও হাস্যকর। তাঁর বাড়িতে ‘আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং’–এর ধুয়া তুলে চড়াও হওয়া সন্ত্রাসী তৎপরতা ছাড়া আর কিছু নয়।” তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে একই অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা করত। বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।” অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে গ্রেপ্তার, কঠোর ব্যবস্থা ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান সাইফুল হক।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শুধু মব নয়, কোনো কোনো দল ও নেতার বক্তব্য-বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হচ্ছে, যা দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেবে।” এই বিবৃতিতে সিপিবি সভাপতি শাহ আলম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ স্বাক্ষর করেছেন।

ফরিদপুরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের ঝিলটুলীর বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের চড়াও হওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় হা-মীম গ্রুপের ল্যান্ড কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফিজুল খান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার জমা দেন।

এই এজাহারে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা-সহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও অন্তত ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিস্তারিত

এজাহারে রাফিজুল খান উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীতে অবস্থিত এ. কে. আজাদের অফিস কাম বাড়িতে তিনি তার সহকর্মীদের (প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সোলাইমান হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসান, কেয়ারটেকার জালাল শেখ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল হান্নান, গৃহপরিচারিকা মাজেদা বেগম, সিসিটিভি অপারেটর সেলিম হোসেন ও সহকারী শাওন শেখ) নিয়ে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একদল ‘উগ্র সন্ত্রাসী’ হঠাৎ বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড মেহেদী হাসানকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে এ. কে. আজাদের বাড়িতে ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি ও গালাগাল করতে থাকে। রাফিজুল খান কক্ষ থেকে উঠানে আসামাত্র গোলাম মোস্তফা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন– “তোর স্যার এ. কে. আজাদ যেন ফরিদপুর না আসেন। আসলে হত্যা করে লাশ পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেব। তাঁর বাড়িঘর, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যা আছে, সব ভস্ম করে দেব।” এরপর তারা জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এজাহারে নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন— জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি ক্যাপ্টেন সোহাগ।

বিএনপি ও পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বাড়িটিতে আওয়ামী লীগের গোপন সভা হচ্ছে—এই তথ্য পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। আমরা কেউ কোনো হুমকি-ধমকি দিইনি। একটি ঢিলও ছোড়া হয়নি। যিনি থানায় অভিযোগ করেছেন, তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার আহাদউজ্জামান জানান, ওসি বাইরে আছেন এবং তিনি আসার পর তাকে বিষয়টি জানানো হবে। পুলিশ সুপার এম এ জলিল জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন মহলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

এদিকে, এ. কে. আজাদের বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের চড়াও হওয়া-সহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যা-নিপীড়নের ঘটনায় বিভিন্ন দল ও জোট নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে এসব দল ও সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার বিবৃতিতে বলেছেন, “যে যুক্তিতে এ. কে. আজাদের বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীরা চড়াও হয়েছেন, তা উদ্ভট ও হাস্যকর। তাঁর বাড়িতে ‘আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং’–এর ধুয়া তুলে চড়াও হওয়া সন্ত্রাসী তৎপরতা ছাড়া আর কিছু নয়।” তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে একই অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা করত। বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।” অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে গ্রেপ্তার, কঠোর ব্যবস্থা ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান সাইফুল হক।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শুধু মব নয়, কোনো কোনো দল ও নেতার বক্তব্য-বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হচ্ছে, যা দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেবে।” এই বিবৃতিতে সিপিবি সভাপতি শাহ আলম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ স্বাক্ষর করেছেন।