ফরিদপুরে যুবলীগের প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
- / 1961
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের কাফুরপুর গ্রামের মালেক ফকিরের বাড়িতে ঘটে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। সৌদি প্রবাসী ও রিয়াদ যুবলীগের প্রধান উপদেষ্টা কায়ুম ফকিরের বিরুদ্ধে তাঁর আপন ভাতিজি সামিয়া আক্তারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে, যখন সামিয়াকে জোর করে সাবান পানি খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগের পর আরও নির্যাতনের শিকার পরিবার
এজাহার দায়েরের পরদিন, সোমবার, অভিযুক্ত কায়ুম ফকির আরও দুই ভাতিজিকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে জানান সামিয়ার পরিবার। বর্তমানে তারা আশ্রয়হীন অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সামিয়ার মা সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী শাহাবুদ্দিন ফকির প্রবাসে থাকাকালে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই আমার ও মেয়েদের উপর নির্যাতন বাড়তে থাকে।”
ঘটনার বিবরণ দিলেন সামিয়ার মা ও বোন
সালমা বেগমের ভাষ্যমতে, ঈদের দুই দিন পর দেশে ফিরে কায়ুম ফকির বারবার তাদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেন। এতে সামিয়ার বড় বোন প্রতিবাদ করে। এরপর শনিবার রাতে সামিয়াকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে তার ফুপু সাকি বেগম, হাফিজা বেগম এবং চাচা কায়ুম ও তার বাবা শাহাবুদ্দিন মিলে সাবান মিশ্রিত পানি খাইয়ে হত্যাচেষ্টা চালান বলে অভিযোগ। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় সামিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সামিয়ার ছোট বোন সিনহা আক্তারী (১২) বলেন, “চাচা কায়ুম আমাদের ঘর ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। আমার বড় বোন প্রতিবাদ করেছিল।”
অভিযুক্ত কায়ুম ফকির ঘটনাটিকে পারিবারিক বিষয় বলে দাবি করেন।
সামিয়ার বাবা শাহাবুদ্দিন ফকির বলেন, “আমি ২০২১ সালে আমার স্ত্রী সালমাকে একতরফাভাবে তালাক দিয়েছি। মেয়েরা মাঝেমধ্যে তাদের মায়ের সাথে বাড়িতে আসে। ঘটনার সময় আমরা উঠানে বসা ছিলাম, পরে চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সামিয়া মাটিতে পড়ে আছে। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, তবে আমি মেডিকেল পর্যন্ত যাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি তাদের মা-মেয়ের পরিকল্পনা। আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে। ইতিপূর্বেও বিভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি ১০ কাঠা জমি লিখে দিয়েছি।”
ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসাইন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। সামিয়ার ভাষ্যমতে, তাকে জোর করে সাবান মেশানো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের দাবি, সামিয়া নিজের ইচ্ছায় এমন কাজ করেছে।
তিনি বলেন, “এটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





















