ফরিদপুর শ্রমিক দলে ভূমিকম্প: সভাপতি-সম্পাদক পদ শূন্য ঘোষণা, নতুন দায়িত্ব প্রদান
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
- / 1415
ফরিদপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ মোজাফফর আলী মুসা আওয়ামী লীগে যোগদান করায় এবং সাধারণ সম্পাদক মো. অলিয়ার রহমান মৃত্যুবরণ করায়, দলটি তাঁদের পদ দু’টি শূন্য ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্তের পর নতুন করে সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শামসুল হক সরদারকে সভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মান্নান মানাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় ২১ জন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
আজ সোমবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা শহরের গোয়ালচামটস্থ শ্রমিক দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় জেলা ও মহানগর শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামসুল হক সরদার।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১০ সালে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
পুরনো নেতারা দল ত্যাগ ও মৃত্যুবরণ করায় স্থবিরতা
২০১৮ সালে কমিটির সভাপতি শেখ মোজাফফর আলী মুসা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সাধারণ সম্পাদক মো. অলিয়ার রহমানও আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে মারা যান। এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে দলের ১৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে পুনরায় সক্রিয় করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হবে
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হবে। পাশাপাশি জেলা নেতাদের দেয়া ক্ষমতাবলে উপজেলা ও পৌর কমিটি নতুন করে গঠন করা হবে, যা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শামসুল হক সরদার আরও বলেন, “২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শেখ মোজাফফর আলী মুসার সভাপতি হিসেবে কোনো কার্যক্রমকে দলীয়ভাবে বৈধ বলে গণ্য করা হবে না।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১০ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময় শ্রমিক দলের অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। এতে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। বিষয়টি একাধিকবার কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের ভয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।”
উপস্থিত ছিলেন যারা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, আ.ক.ম. নুরুন্নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাহার হোসেন মামুন, সহ-সম্পাদক মো. রউফুল আলম লিমন, মো. জাহিদ হোসেন, মো. জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এ মজিদসহ মোট ২১ জন সদস্য।
এছাড়া মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন, সহ-সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান লিটু, কোতোয়ালি থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ. সত্তার জোয়ারদারও উপস্থিত ছিলেন।
প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল “ফরিদপুরে শ্রমিক দলের সভাপতি পরিচয়ে আ’লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, যেখানে শেখ মোজাফফর আলী মুসাকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।





















