ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরে রণক্ষেত্র: পুলিশের গাড়িতে আগুন, এএসপিসহ আহত অর্ধশত

টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 902

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সদর এলাকার বেপারীপাড়া ব্রিজের মোড়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের বাসিন্দারা। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলমসহ উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন।

ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এমনকি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের টিয়ারশেলও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ, ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার জানান, রোববার বিকেলে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, সোমবার সকাল ১০টায় থানার হলরুমে বসে বিরোধ মীমাংসা করা হবে। কিন্তু সন্ধ্যায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

পুরনো দ্বন্দ্ব থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আতশবাজি ফাটানো নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্বের জেরেই শনিবার রাতেও প্রায় তিন ঘণ্টা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের বাসিন্দারা। এতে ১০ পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হন। এরপর থেকে এলাকাজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বাড়ে উত্তেজনা, ছড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিকতায়

রোববার সন্ধ্যার সংঘর্ষ একপর্যায়ে কুমার নদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকাতেও। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চারজন

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় পশ্চিম রাজৈর গ্রামের মেহেদী মীর (২২), রাসেল শেখ (২৮), সাহাপাড়ার মনোতোষ সাহা (৫০) এবং আলমদস্তারের তাওফিক (৩৭)–কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের মন্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা

রাজৈর থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি শান্ত। এটি চতুর্থ দফায় সংঘর্ষ। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, তবে আমরা কাউকে দায়ী না করে সমাধানে যেতে চাই। সবার সহযোগিতায় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।”

মাদারীপুরে রণক্ষেত্র: পুলিশের গাড়িতে আগুন, এএসপিসহ আহত অর্ধশত

আপডেট সময় : ১২:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সদর এলাকার বেপারীপাড়া ব্রিজের মোড়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের বাসিন্দারা। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলমসহ উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন।

ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এমনকি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের টিয়ারশেলও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ, ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার জানান, রোববার বিকেলে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, সোমবার সকাল ১০টায় থানার হলরুমে বসে বিরোধ মীমাংসা করা হবে। কিন্তু সন্ধ্যায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

পুরনো দ্বন্দ্ব থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আতশবাজি ফাটানো নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্বের জেরেই শনিবার রাতেও প্রায় তিন ঘণ্টা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের বাসিন্দারা। এতে ১০ পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হন। এরপর থেকে এলাকাজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বাড়ে উত্তেজনা, ছড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিকতায়

রোববার সন্ধ্যার সংঘর্ষ একপর্যায়ে কুমার নদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকাতেও। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চারজন

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় পশ্চিম রাজৈর গ্রামের মেহেদী মীর (২২), রাসেল শেখ (২৮), সাহাপাড়ার মনোতোষ সাহা (৫০) এবং আলমদস্তারের তাওফিক (৩৭)–কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের মন্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা

রাজৈর থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি শান্ত। এটি চতুর্থ দফায় সংঘর্ষ। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, তবে আমরা কাউকে দায়ী না করে সমাধানে যেতে চাই। সবার সহযোগিতায় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।”