ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, মায়ের প্রতি ভালোবাসা-র‍্যাব কার্যালয়ে এএসপি পলাশ সাহার করুণ আত্মহত্যা

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • / 513

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার র‍্যাব-৭ কার্যালয়ে কর্মরত স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৭ মে) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে নিজ অফিস কক্ষে নিজের ব্যবহৃত পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পলাশ সাহার গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত অস্ত্র থেকেই গুলির ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।”

পারিবারিক কলহ থেকেই আত্মহত্যা: ভাইয়ের অভিযোগ

এএসপি পলাশ সাহার মেজো ভাই নন্দলাল সাহা বলেন, “দুই বছর আগে ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ায় পলাশের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬-৭ মাস পর থেকেই পারিবারিক কলহ শুরু হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা সমস্যা সৃষ্টি করতেন। আমার মা আরতি সাহা পলাশের সঙ্গে চট্টগ্রামে থাকতেন, কিন্তু পলাশের স্ত্রী সেটা মেনে নিতে পারতেন না। তিনি মাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য পলাশকে চাপ দিতেন।”

তিনি আরও জানান, “পলাশ তার মা এবং স্ত্রী—উভয়কেই ভালোবাসতেন। কিন্তু স্ত্রী মাকে নিয়ে আপত্তি জানাতেন। বুধবার সকালে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সুস্মিতা আমার ভাই ও মায়ের গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনাটি ভাই কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। আমাদের ধারণা, এ কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।”

চিরকুটে ছিল বেদনার ছাপ

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটে এএসপি পলাশ সাহা লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর, তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে, তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।”

চিরকুটে লেখা থেকে স্পষ্ট, পরিবারকে ভালো রাখতে চেয়েও ব্যর্থ হওয়া এবং মানসিক চাপে থেকেই পলাশ সাহা আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

র‍্যাব ও পুলিশের বক্তব্য

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “এএসপি পলাশ সাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

পরিচিতি ও পারিবারিক পটভূমি

এএসপি পলাশ সাহা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার ছেলে। তিনি র‍্যাব-৭–এ কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছাপ।

ট্যাগস :

স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, মায়ের প্রতি ভালোবাসা-র‍্যাব কার্যালয়ে এএসপি পলাশ সাহার করুণ আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার র‍্যাব-৭ কার্যালয়ে কর্মরত স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৭ মে) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে নিজ অফিস কক্ষে নিজের ব্যবহৃত পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পলাশ সাহার গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত অস্ত্র থেকেই গুলির ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।”

পারিবারিক কলহ থেকেই আত্মহত্যা: ভাইয়ের অভিযোগ

এএসপি পলাশ সাহার মেজো ভাই নন্দলাল সাহা বলেন, “দুই বছর আগে ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ায় পলাশের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬-৭ মাস পর থেকেই পারিবারিক কলহ শুরু হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা সমস্যা সৃষ্টি করতেন। আমার মা আরতি সাহা পলাশের সঙ্গে চট্টগ্রামে থাকতেন, কিন্তু পলাশের স্ত্রী সেটা মেনে নিতে পারতেন না। তিনি মাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য পলাশকে চাপ দিতেন।”

তিনি আরও জানান, “পলাশ তার মা এবং স্ত্রী—উভয়কেই ভালোবাসতেন। কিন্তু স্ত্রী মাকে নিয়ে আপত্তি জানাতেন। বুধবার সকালে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সুস্মিতা আমার ভাই ও মায়ের গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনাটি ভাই কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। আমাদের ধারণা, এ কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।”

চিরকুটে ছিল বেদনার ছাপ

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটে এএসপি পলাশ সাহা লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর, তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে, তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।”

চিরকুটে লেখা থেকে স্পষ্ট, পরিবারকে ভালো রাখতে চেয়েও ব্যর্থ হওয়া এবং মানসিক চাপে থেকেই পলাশ সাহা আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

র‍্যাব ও পুলিশের বক্তব্য

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “এএসপি পলাশ সাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

পরিচিতি ও পারিবারিক পটভূমি

এএসপি পলাশ সাহা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার ছেলে। তিনি র‍্যাব-৭–এ কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছাপ।