ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ব্যাংক লুটপাট, কড়া হুঁশিয়ারি গভর্নর মোস্তাকুরের

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / 69

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে রুগ্‌ণ করে ফেলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ—রাজনৈতিক মদতপুষ্ট লুটপাট। বিশেষ করে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে যেভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নামে আমানতকারীদের অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। শনিবার (৪ জুলাই) এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে বলতে গিয়ে কার্যত গর্জে উঠলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ইসলামী ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ব্যাংকগুলোকে রাজনীতির দাবার বোর্ড হতে দেওয়া যাবে না।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) আয়োজিত এক কর্মশালায় গভর্নর বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন। আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই রাজনৈতিক চাপের আড়ালে ব্যাংকগুলোতে চলেছে আমানত লুঠের মহোৎসব।

আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা, আর নয় ছাড়

গভর্নর বলেন, “রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নামে আগে শরিয়া ব্যাংকগুলোতে যেভাবে আমানতকারীদের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এই লুটপাটের কারণেই আজ গোটা ব্যাংক খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”

গভর্নরের এই মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। সেখানে সুশাসন ফেরাতে এবং রাজনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্ষদ চেয়ারম্যানদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গভর্নর সাফ জানিয়ে দেন, যদি কোনো ব্যাংক কোনো ধরণের রাজনৈতিক চাপের আভাস পায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কর্মশালায় কী বার্তা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহসংক্রান্ত ভূমিকা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, শরিয়াহ উইন্ডো ও শরিয়াহ শাখা থাকা ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা যা বললেন:

মোস্তাকুর রহমান (গভর্নর): ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক তদবির বা হস্তক্ষেপ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

ড. মো. কবির আহমেদ (ডেপুটি গভর্নর): ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়নে পর্ষদকে সহযোগিতা করতে হবে।

আব্দুল হাই সরকার (চেয়ারম্যান, বিএবি): ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে শরিয়াহ পরিপালনের কোনো বিকল্প নেই।

ফোকাস: বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ব্যাংক খাত থেকে রাজনৈতিক ভূত নামাতে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের এই কঠোর বার্তা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমানতকারীরা তাকিয়ে আছেন, তাদের জমানো টাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা আপসহীন ভূমিকা নিতে পারে।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ব্যাংক লুটপাট, কড়া হুঁশিয়ারি গভর্নর মোস্তাকুরের

আপডেট সময় : ০১:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে রুগ্‌ণ করে ফেলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ—রাজনৈতিক মদতপুষ্ট লুটপাট। বিশেষ করে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে যেভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নামে আমানতকারীদের অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। শনিবার (৪ জুলাই) এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে বলতে গিয়ে কার্যত গর্জে উঠলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ইসলামী ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ব্যাংকগুলোকে রাজনীতির দাবার বোর্ড হতে দেওয়া যাবে না।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) আয়োজিত এক কর্মশালায় গভর্নর বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন। আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই রাজনৈতিক চাপের আড়ালে ব্যাংকগুলোতে চলেছে আমানত লুঠের মহোৎসব।

আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা, আর নয় ছাড়

গভর্নর বলেন, “রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নামে আগে শরিয়া ব্যাংকগুলোতে যেভাবে আমানতকারীদের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এই লুটপাটের কারণেই আজ গোটা ব্যাংক খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”

গভর্নরের এই মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। সেখানে সুশাসন ফেরাতে এবং রাজনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্ষদ চেয়ারম্যানদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গভর্নর সাফ জানিয়ে দেন, যদি কোনো ব্যাংক কোনো ধরণের রাজনৈতিক চাপের আভাস পায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কর্মশালায় কী বার্তা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহসংক্রান্ত ভূমিকা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, শরিয়াহ উইন্ডো ও শরিয়াহ শাখা থাকা ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা যা বললেন:

মোস্তাকুর রহমান (গভর্নর): ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক তদবির বা হস্তক্ষেপ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

ড. মো. কবির আহমেদ (ডেপুটি গভর্নর): ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়নে পর্ষদকে সহযোগিতা করতে হবে।

আব্দুল হাই সরকার (চেয়ারম্যান, বিএবি): ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে শরিয়াহ পরিপালনের কোনো বিকল্প নেই।

ফোকাস: বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ব্যাংক খাত থেকে রাজনৈতিক ভূত নামাতে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের এই কঠোর বার্তা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমানতকারীরা তাকিয়ে আছেন, তাদের জমানো টাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা আপসহীন ভূমিকা নিতে পারে।