ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 359

মহানাটকের শেষ অঙ্ক কি তবে সমাগত? ঢাকার ক্ষমতার অলিন্দে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন—বঙ্গভবনের চাবিকাঠি হাতবদল হতে চলেছে অত্যন্ত দ্রুত। সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে সরকারের এক শীর্ষ ও দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, খুব শিগগিরই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে চলেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) ওই সূত্র মারফত জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন, তা নিয়ে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে ইতিমধ্যেই তুমুল কাটাছেঁড়া ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক শুরু হয়ে গেছে। তবে নতুন নামের চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে যদি কিছুটা বিলম্বও হয়, তবে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

অসুস্থতার ‘সেফ এক্সিট’ এবং কর্মীদের বঙ্গভবন ছাড়ার গোপন ইঙ্গিত

রাজনৈতিক চতুরতার খেলায় শেষ পর্যন্ত কোন ঢাল ব্যবহার করবেন সাহাবুদ্দিন? সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, সম্ভবত ‘অসুস্থতা’কে সামনে রেখেই নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন তিনি। যদিও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ইস্তাহারের সিলমোহর মেলেনি, তবে ভেতরের খবর অন্য কথা বলছে। বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ ও অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুব শিগগিরই তল্পিতল্পা গুটিয়ে বঙ্গভবন ছাড়ার গোপন ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি কিছুদিন নিভৃতে বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার অছিলায় বিদেশযাত্রারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মসনদে বসেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল। কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পুরো সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অপমান’ থেকে বর্তমানের সমঝোতা: ইতিহাসের আবর্ত

স্মরণ করা যেতে পারে, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ছাত্রনেতারা সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় এবং বৃহৎ দল বিএনপির প্রচ্ছন্ন সমর্থনে তাঁকে পদে বহাল রাখে। তবে জল বেশিদিন স্থির থাকেনি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বরের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন নিজেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি তীব্র ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন এবং মেয়াদের মাঝামাঝি পদ ছাড়তে চান।

এরপর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি সাফ জানিয়ে দেন—সরকার চাইলে থাকবেন, নয়তো স্বেচ্ছায় বিদায় নেবেন। অবশেষে সেই বিদায়ের ক্ষণটিই ঘনিয়ে এল। সংবিধানের ৫৪ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িক দায়িত্ব নেবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যেহেতু বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই রাইসিনা হিলসের কায়দায় বঙ্গভবনে এবার তাদেরই কোনো বিশ্বস্ত ও অনুগত সিপাহসালার বসতে চলেছেন, তা বলাই বাহুল্য।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মহানাটকের শেষ অঙ্ক কি তবে সমাগত? ঢাকার ক্ষমতার অলিন্দে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন—বঙ্গভবনের চাবিকাঠি হাতবদল হতে চলেছে অত্যন্ত দ্রুত। সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে সরকারের এক শীর্ষ ও দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, খুব শিগগিরই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে চলেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) ওই সূত্র মারফত জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন, তা নিয়ে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে ইতিমধ্যেই তুমুল কাটাছেঁড়া ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক শুরু হয়ে গেছে। তবে নতুন নামের চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে যদি কিছুটা বিলম্বও হয়, তবে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

অসুস্থতার ‘সেফ এক্সিট’ এবং কর্মীদের বঙ্গভবন ছাড়ার গোপন ইঙ্গিত

রাজনৈতিক চতুরতার খেলায় শেষ পর্যন্ত কোন ঢাল ব্যবহার করবেন সাহাবুদ্দিন? সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, সম্ভবত ‘অসুস্থতা’কে সামনে রেখেই নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন তিনি। যদিও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ইস্তাহারের সিলমোহর মেলেনি, তবে ভেতরের খবর অন্য কথা বলছে। বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ ও অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুব শিগগিরই তল্পিতল্পা গুটিয়ে বঙ্গভবন ছাড়ার গোপন ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি কিছুদিন নিভৃতে বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার অছিলায় বিদেশযাত্রারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মসনদে বসেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল। কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পুরো সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অপমান’ থেকে বর্তমানের সমঝোতা: ইতিহাসের আবর্ত

স্মরণ করা যেতে পারে, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ছাত্রনেতারা সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় এবং বৃহৎ দল বিএনপির প্রচ্ছন্ন সমর্থনে তাঁকে পদে বহাল রাখে। তবে জল বেশিদিন স্থির থাকেনি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বরের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন নিজেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি তীব্র ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন এবং মেয়াদের মাঝামাঝি পদ ছাড়তে চান।

এরপর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি সাফ জানিয়ে দেন—সরকার চাইলে থাকবেন, নয়তো স্বেচ্ছায় বিদায় নেবেন। অবশেষে সেই বিদায়ের ক্ষণটিই ঘনিয়ে এল। সংবিধানের ৫৪ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িক দায়িত্ব নেবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যেহেতু বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই রাইসিনা হিলসের কায়দায় বঙ্গভবনে এবার তাদেরই কোনো বিশ্বস্ত ও অনুগত সিপাহসালার বসতে চলেছেন, তা বলাই বাহুল্য।