ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মেজর (অব.) মোজাফফর ৪৫ বছর পর আটক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • / 176

ইতিহাসের চাকা ঘোরে, আর নিয়তির চাবুক আঘাত করে ঠিক মোক্ষম সময়ে। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক—দিনলিপির পাতায় প্রায় ৪৫টি বছর ধরে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যিনি ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, অবশেষে তাঁর সেই দীর্ঘ লুকোচুরির অবসান ঘটল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন এখন আইন-শৃঙ্খলার রক্ষীদের খাঁচায় বন্দি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ ও গোপন অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

মেজর মোজাফফরের এই আকস্মিক পতন প্রমাণ করে দিল, অপরাধের বয়স যতই হোক না কেন, বিচার এড়ানো যায় না।

সেই কালরাত এবং সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবন

১৯৮১ সালের ৩০ মে। চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসের সেই রক্তঝরা কালরাত ও বিদ্রোহের কথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার নৃশংস হামলায় সেদিন নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। সেই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং উচ্চ আদালতের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছিল। কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হলেও মেজর মোজাফফরসহ কয়েকজন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে দেশের ভেতরে ও বাইরে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

ডিবি পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় অত্যন্ত চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তিনি ডানা গলিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিখুঁত ও অকাট্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে এবং ঘেরাও করে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরিচয় ও মামলার সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পর অবশেষে আজ তাঁকে সেনাসদরের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

আদালতের দণ্ড কার্যকরের পথে চূড়ান্ত পদক্ষেপ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন সেনাবাহিনী ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪৫ বছর ধরে যে বিচার ঝুলে ছিল, তার একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।

এই গ্রেপ্তারের খবরটি দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে এক বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এতদিন পর কীভাবে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেশের বুকে আত্মগোপন করে রইলেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মেজর (অব.) মোজাফফর ৪৫ বছর পর আটক

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইতিহাসের চাকা ঘোরে, আর নিয়তির চাবুক আঘাত করে ঠিক মোক্ষম সময়ে। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক—দিনলিপির পাতায় প্রায় ৪৫টি বছর ধরে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যিনি ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, অবশেষে তাঁর সেই দীর্ঘ লুকোচুরির অবসান ঘটল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন এখন আইন-শৃঙ্খলার রক্ষীদের খাঁচায় বন্দি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ ও গোপন অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

মেজর মোজাফফরের এই আকস্মিক পতন প্রমাণ করে দিল, অপরাধের বয়স যতই হোক না কেন, বিচার এড়ানো যায় না।

সেই কালরাত এবং সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবন

১৯৮১ সালের ৩০ মে। চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসের সেই রক্তঝরা কালরাত ও বিদ্রোহের কথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার নৃশংস হামলায় সেদিন নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। সেই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং উচ্চ আদালতের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছিল। কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হলেও মেজর মোজাফফরসহ কয়েকজন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে দেশের ভেতরে ও বাইরে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

ডিবি পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় অত্যন্ত চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তিনি ডানা গলিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিখুঁত ও অকাট্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে এবং ঘেরাও করে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরিচয় ও মামলার সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পর অবশেষে আজ তাঁকে সেনাসদরের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

আদালতের দণ্ড কার্যকরের পথে চূড়ান্ত পদক্ষেপ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন সেনাবাহিনী ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪৫ বছর ধরে যে বিচার ঝুলে ছিল, তার একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।

এই গ্রেপ্তারের খবরটি দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে এক বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এতদিন পর কীভাবে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেশের বুকে আত্মগোপন করে রইলেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ।