বিএনপির সভাপতি হারুন মাস্টারকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 830
ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বাহ্রা গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে হারুনুর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টার (৬৫) নামের এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২ জুলাই, ২০২৫) সকাল ৬টার দিকে বাহ্রা স্কুলের কাছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত হারুন মাস্টার বাহ্রা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে এবং নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
হত্যার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার ফজরের নামাজ শেষে হারুন মাস্টার বাড়ির পাশের নদীর ধারে হাঁটতে যান। সে সময় তিন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাতিজা মো. শাহিন জানান, “প্রতিদিনের মতো ভোরে নামাজ শেষে চাচা হাঁটতে বের হন। এ সময় তিন যুবক তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। কী কারণে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।”
দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুসরাত তারিন নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ব্যক্তির মাথা, ঘাড় ও শরীরে মোট ৬টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
হত্যার সম্ভাব্য কারণ: গ্রুপিং ও বালু ব্যবসা
এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় এক নেতা জানান, “কিছু দিন যাবৎ নয়াবাড়ীতে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।”
এছাড়াও, স্থানীয় বালু ব্যবসা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল বলে একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। এই বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের সঙ্গে স্থানীয় কারো পূর্ব শত্রুতা ছিল কিনা, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।” পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুততম সময়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর দোহার এলাকায় উত্তেজনা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।





















