দেড় মাস সংসার করার পর ‘নববধূ’ সামিয়া আসলে পুরুষ
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / 998
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় মাস সংসার করার পর জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান শান্ত (ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল গ্রামের মো. বাদল খানের ছেলে) যাকে বিয়ে করেছিলেন, সেই নববধূ সামিয়া আসলে একজন পুরুষ! গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ফেসবুকে প্রেম, মৌলভি ডেকে বিয়ে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কথিত সামিয়ার প্রকৃত নাম মো. শাহিনুর রহমান। তিনি চট্টগ্রামের আমতলা ঈদগাহ বৌবাজার এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে শাহিনুর ফেসবুকে ‘সামিয়া’ নামে একটি নারীর ছদ্মবেশে পরিচিতি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে গত ৭ জুন তিনি শান্তর বাড়িতে চলে আসেন। পরিবারের সম্মতিতে, স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এবং মৌলভি ডেকে শান্ত ও সামিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কাবিননামা রেজিস্ট্রি করা হয়নি।
দেড় মাসের রহস্যময় দাম্পত্য জীবন
বিয়ে হওয়ার পর থেকে নববধূ হিসেবেই শান্তর পরিবারের সঙ্গে ছিলেন শাহিনুর (সামিয়া)। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রায় দেড় মাসেও কেউ বুঝতে পারেননি যে তিনি আসলে একজন পুরুষ। তবে সম্প্রতি তার কিছু আচরণ দেখে পরিবার ও শান্তর মনে সন্দেহ তৈরি হয়। শুক্রবার বিকেলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সামিয়া প্রকৃতপক্ষে পুরুষ।
শান্ত ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে জানান, “ফেসবুকের মাধ্যমে সামিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সে হঠাৎ আমাদের বাড়িতে চলে আসে। পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই তার আচরণ রহস্যজনক ছিল। কাছে যেতে চাইলে বলত, ‘আমি অসুস্থ, ডাক্তার নিষেধ করেছে।'”
শান্তর মা মোছা. সোহাগী বেগম দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে বলেন, “একজন পুরুষ মানুষ আমাদের পরিবারে বউ হয়ে ছিল, অথচ আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। অভিনয় করে আমাদের মন জয় করে নিয়েছিল।”
পরিবারের পদক্ষেপ ও শাহিনুরের স্বীকারোক্তি
ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর শনিবার সকালে শান্তর পরিবার শাহিনুরকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে শাহিনুর রহমান ওরফে সামিয়া ফোন করে ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে বলেন, “শান্তর সঙ্গে যা করেছি, সেটা আমার অন্যায়। আমার হরমোনজনিত সমস্যা আছে। তাই নিজেকে মেয়ে ভাবতেই ভালো লাগে।”





















