চাঁদাবাজিতে জড়িত ছাত্রদল ২ নেতাকে পুলিশে দিল বিএনপি, সভাপতি বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
- / 542
চাঁদা না পেয়ে লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝোলানো এবং স্থানীয় বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটক ও অভিযোগ
আটককৃতরা হলেন লছমনপুর ইউনিয়নের বড় ঝাউয়েরচর এলাকার মো. সবুজ আহাম্মেদ (৩৫) এবং কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার মো. আল আমিন ইসলাম সাগর (২৬)। বুধবার রাতে লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি বাজারের লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। লছমনপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সবুজ আহাম্মেদ (লছমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি) এবং আল আমিন ইসলাম সাগর (বর্তমান স্থগিতকৃত সভাপতি) দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না। বরং তারা দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।
সংঘটিত অপরাধ ও ক্ষোভ
বুধবার আটককৃতরা তাদের কিছু অনুসারী নিয়ে চাঁদার দাবিতে বলায়েরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তার পরিষদে লাঞ্ছিত করেন। এরপর লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, পরিষদের সচিবসহ অন্যদের বের করে দিয়ে পরিষদের ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এছাড়াও, কুসুমহাটি বাজারের আশপাশের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দলীয় ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার রাতে ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা মিলে সবুজ ও সাগরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ছাত্রদলের বহিষ্কার ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনার পরপরই লছমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. আল আমিন ইসলাম সাগরকে সভাপতি পদসহ প্রাথমিক সদস্য থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে শেরপুর সদর উপজেলা ছাত্রদল। শেরপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শারদুল ইসলাম মুরাদ বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এর আগে গত ১৭ জুলাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আল-আমিন ইসলাম সাগরের লছমনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
এদিকে, এই ঘটনায় লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মহিলা দলের নেত্রী আলেয়া বেগম বাদী হয়ে সবুজ ও সাগরসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে শেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
বিএনপির বার্তা
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ পলাশ জানিয়েছেন, “বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। যে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হবে তার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





















