দুই মেয়ের কাণ্ডে স্তব্ধ : তাবলিগে থাকা বাবাকে ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে মামলা
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
- / 409
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আলোনিয়ায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতে আব্দুল মন্নান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে (৪৫) ৪০ দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন তার দুই মেয়ে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা বেরিয়ে এসেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশের তদন্তে।
অপহরণের এই মিথ্যা অভিযোগ তুলে দুই মেয়ে প্রতিপক্ষের ১০ জনের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। এমনকি সংবাদ সম্মেলন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল মন্নানকে জীবিত উদ্ধারের দাবিও জানিয়েছিলেন তার মেয়ে শাহিনা আক্তার। ঘটনার ১৪ দিন পর চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলমের তদন্তে এই নাটকীয় রহস্য উদঘাটন হয়। শুক্রবার (২৭ জুন, ২০২৫) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহ উপজেলার রাজাপুর গ্রামের একটি মসজিদ থেকে আব্দুল মন্নানকে উদ্ধার করা হয়।
কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও মামলার সূত্র অনুযায়ী, গত ১৩ জুন রাতে আব্দুল মন্নান চৌধুরীর সন্তানরা অভিযোগ করেন যে, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাবাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে তার মেয়ে শাহিনা আক্তার ১০ জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
গত ২৪ জুন চুনারুঘাট প্রেস ক্লাবে শাহিনা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে তার বাবাকে অপহরণের অভিযোগ এনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানান।
পুলিশি তদন্তে রহস্য উন্মোচন
থানায় মামলা দায়েরের পর মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। থানার ওসি নুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠেন। শুরুতেই অপহরণের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আব্দুল মন্নানকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মৃদুল কুমার ভৌমিকসহ একদল পুলিশ অনুসন্ধানে মাঠে নামেন।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, নিখোঁজ মন্নান চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহ উপজেলার রাজাপুর গ্রামে অবস্থান করছেন। শুক্রবার বিকেলে এসআই মৃদুল কুমার ভৌমিকসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফতুল্লাহ থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্বীকারোক্তি ও জনমনে আলোচনা
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল মন্নান চৌধুরী জানান, ৪০ দিনের জন্য রাজাপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে তিনি গত ১৩ জুন থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। কেউ তাকে অপহরণ করেনি।
অপর একটি সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে আব্দুল মন্নান চৌধুরীসহ তার পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ফাঁসাতে ও হয়রানি করতে তার দুই সন্তান অপহরণের নাটক সাজিয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। তবে পুলিশ মূল রহস্য উদঘাটন করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের সাজানো নাটক আইনের অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রতি চরম অবিচার। প্রশাসন যথাসময়ে সত্য ঘটনা উদঘাটন করায় মামলার আসামিদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।





















