ডিবি হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: সাবেক ২ এমপি ও পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ১১:৪০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 423
২০১২ সালে শেরপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে শেরপুর জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চু (বাচ্চু) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন, ২০২৫) এই হত্যাকাণ্ডের জেরে সাবেক দুই সংসদ সদস্য (এমপি), একজন সাবেক পুলিশ সুপার, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিবি পুলিশের সাবেক ওসিসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে মোকারুল ইসলাম মোহন শেরপুর সদর সি.আর আমলী আদালতে এই মামলাটি (সি.আর মামলা নং ৭৯৯/২০২৪) করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সুলতান মাহমুদ মিলন মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুরের পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিদের পরিচয়
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
সাবেক এমপি ও হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক
সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফাতেমাতুজহুরা শ্যামলী
শেরপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান
সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিবুল ইসলাম খান
শেরপুর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) সাবেক ওসি মো. নজরুল ইসলাম
ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম
শেরপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম
ডিবির সাবেক উপ-পরিদর্শক মো. রিয়াদ হোসেন
মো. আরিফ রেজা
মো. শুভ রেজা
মো. আনোয়ারুল হাসান উৎপল
শ্রী চন্দন সাহা
তরিকুল ইসলাম রাজু
আমিরুল ইসলাম
শরিফুর রহমান শরিফ
মোহাম্মদ আলী
মো. শহিদুর রহমান
জাহাঙ্গীর আলম
মো. আব্দুল আলিম
মো. জাহাঙ্গীর আলম
আশীষ কুমার সুর
মাসুদ রানা
বেলাল হোসেন
মো. সাইদুল ইসলাম সাইদ
মাহবুবা রহমান শিমু
মনিরুজ্জামান মিলন তালুকদার
মো. আব্দুল হামিদ
শামীম আরা বেগম
হাজী মোশারফ
চানু মিয়া
সেতু দত্ত সহ আরও অনেকে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও সাবেক এমপি আতিউর রহমান আতিকের নির্দেশে তৎকালীন ডিবি ওসি এবং কয়েকজন কনস্টেবলসহ বাচ্চুকে তার নিজ বাড়ি (শহরের সজবরখিলা মহল্লা) থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরের দিন ৪ ডিসেম্বর রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ বাচ্চুর নিথর দেহ তার বাড়িতে রেখে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, বাচ্চু ডিস কেবলের ব্যবসা করতেন এবং তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নামে আগে কোনো মামলা ছিল না। তাকে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডিবি হেফাজতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পরিবার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের কঠিন শাস্তির দাবি করেছে।
নিহতের ছেলে মোকারুল ইসলাম মোহন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাবাকে হত্যা করার পর পুলিশ পাহারায় জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়। আমরা মামলা করতে পারিনি। মামলা না করার জন্য পুলিশ সব সময় আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতো এবং আমাদের তিন ভাইকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।”
আইনি পদক্ষেপ
বাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল আজিজ সজীব রানা জানান, “এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহন বাদী হয়ে সাবেক পুলিশ সুপার, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাবেক ডিবির ওসি ও কয়েকজন কনস্টেবলসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা করেছেন। শেরপুর সদর সিআর আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই জামালপুর পুলিশ সুপারকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।”





















