ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থীদের ডজন: একঝাঁক নেতার দৌড়ঝাঁপ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 833
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনটিতে এক ডজনেরও বেশি প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে এবং গোপনে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তৈরি ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রার্থীরা কেউ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে আছেন, কেউ সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য, আবার কেউবা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে তুলে ধরতে চান।
বিএনপির তিন নেতা—অ্যাড. সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, এবং মাহবুবুল হাসান পিংকু—দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিজেদের মতো করে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা তুলে ধরে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সদ্য সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের আজাদ (এ কে আজাদ) এবং তরুণ সমাজসেবক শক্তি ডি. গুপ্তা নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে সক্রিয় আছেন। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াবও নীরবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ফরিদপুর-৩ আসনের প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
১. আব্দুল কাদের আজাদ (এ কে আজাদ) 📈
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফরিদপুরের মানুষের কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষায় তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে, যে কারণে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরেও তাঁর একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি নিজেকে জনগণের প্রার্থী ঘোষণা করে জনসংযোগ করছেন।
২. অ্যাড. সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ✊
ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি এরশাদ ও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি সুদীর্ঘ ৩১ বছর ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি নিজেকে জিয়াউর রহমানের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে ফরিদপুর সদর আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
৩. চৌধুরী নায়াব ইউসুফ 👩⚖️
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সুযোগ্য কন্যা। তিনি চৌধুরী পরিবারের উত্তরসূরী হিসেবে ফরিদপুরের সাধারণ জনগণের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল (কেন্দ্রীয় কমিটি)-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেও তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
৪. অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ☪️
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চল টিম সদস্য। তিনি বোয়ালমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। জামায়াতের টার্গেট করা অন্যতম এই আসনটিতে তিনি ও তাঁর নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন যাবত নিঃশব্দে নীরব প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এর আগে ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
৫. মাহবুবুল হাসান পিংকু 🛡️
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপির এক নীতিবান শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে পরিচিত। দলের দুঃসময়ে সক্রিয় থেকেছেন। ২০১৪ সালে তিনি তৎকালীন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আপন ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি ফরিদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে জনসেবামূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন।
৬. শক্তি ডি. গুপ্তা (স্বতন্ত্র/তরুণ সমাজসেবক) 🌍
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে জনকল্যাণে কাজ করার ব্রত নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি বিদেশে ক্রিমিনাল জাস্টিসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে সেখানে একটি প্রাইভেট ডিটেকটিভ ফার্ম সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে তিনি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে তুলে ধরে এলাকার মানুষের জন্য নীরবে সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন এবং গণমানুষের বৃহত্তর পরিসরে সেবা করার সুযোগ প্রার্থণা করছেন।
অন্যান্য দলের তৎপরতা
এছাড়াও এসসিপি, গণপরিষদ, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি এবং একাধিক বাম দল ও ইসলামিক দলের প্রার্থীরাও নিজেদের মতো করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে জোট ও নির্বাচনের তারিখ বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এবং তফসিল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত অনেক প্রার্থীই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।





















