ফরিদপুরে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ: কৃষক দল অফিস ভাঙচুর
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 619
ফরিদপুরের সালথায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রামে এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়সহ অন্তত ৮টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মাতুব্বর ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেমায়েত মাতুব্বরের মধ্যে একটি জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ও স্থানীয় মাতুব্বরদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক বসে। জমি মাপার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে হেমায়েত মাতুব্বরের অনুসারীরা চড়াও হয়ে কৃষক দল নেতার সমর্থক মিন্টু মুন্সি, সেলিম মুন্সি, হালিম মীরসহ ৮ জনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট করে এবং পার্শ্ববর্তী কাগদী বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়টিও তছনছ করে।
আহত ও চিকিৎসা সংঘর্ষে গুরুতর আহত আব্বাস মাতুব্বর (২৭), আসাদ (২৭), পিকুল মাতুব্বর (৫৪) ও লিটন মীরকে (৩৫) উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কৃষক দল নেতা ফারুক মাতুব্বর অভিযোগ করেন, “পুলিশের উপস্থিতিতে সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও হেমায়েতের লোকজন হঠাৎ হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও অফিস ভাঙচুর করেছে।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হেমায়েত মাতুব্বর বলেন, “আমি এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই এবং সেখানে কী ঘটেছে তা আমি জানি না।”
পুলিশের পদক্ষেপ সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান, জমির বিরোধ নিয়ে উত্তেজনার খবর পেয়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















