ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কারাগারে বসেই নির্বাচন করছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 955

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মির্জা মাঝহারুল ইসলাম মিলন কারাগার থেকে মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনায় নির্বাচনী বিধি ও সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন

মধুখালী পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মির্জা মাঝহারুল ইসলাম মিলন একসময় ফরিদপুর চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়ন ও মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ১০ জুলাই চিনিকল শ্রমিক শাহ মোহাম্মদ রাজন হত্যা মামলায় ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

রায় ঘোষণার দিনই তার ‘মির্জা মিলন’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, “আমি নির্দোষ, আইনের মধ্য দিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসব।” এর পর থেকেই তার আইডি থেকে আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চলছে।

কারাবন্দী প্রার্থীর প্রচারণা

গত ২৫ আগস্ট তার ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি পোস্ট দেওয়া হয়। একটি পোস্টে তিনি নিজেকে গত নির্বাচনের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আসন্ন নির্বাচনেও সবার সহযোগিতা, দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন। অন্য দুটি পোস্টে বড় করে নিজের ছবি দিয়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ‘দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন’ চাওয়া হয়।

জানা গেছে, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম কেনার শেষ দিন বিকেলে মিলনের ভাই মির্জা শাহরিয়া লোটাস তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। পরে মনোনয়ন ফরম কেনার ছবি মিলনের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “বাধা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আপনাদের দোয়া-আশীর্বাদে মনোনয়ন কিনতে পেরেছি।”

আইন ও গঠনতন্ত্র কী বলছে?

মিলনের ভাই মির্জা শাহরিয়া লোটাস জানান, “আমার ভাই উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। তাই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো বাধা নেই।” তিনি আরও জানান, মিলনের ফেসবুক আইডি তার ছেলে মুগ্ধ ব্যবহার করছেন।

তবে মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ মিয়া বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। যদি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ না থাকে, তবে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর কারাগারের সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, “কারাগারে থেকে কোনো কয়েদি মোবাইল বা ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন না। সম্ভবত ওই আইডি অন্য কেউ ব্যবহার করছেন।”

ফরিদপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মানিক কুমার মজুমদার এবং শাহজাহান জানান, একজনের আইডি অন্য কেউ ব্যবহার করলে তা সাইবার নিরাপত্তা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ফরিদপুরে কারাগারে বসেই নির্বাচন করছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মির্জা মাঝহারুল ইসলাম মিলন কারাগার থেকে মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনায় নির্বাচনী বিধি ও সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন

মধুখালী পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মির্জা মাঝহারুল ইসলাম মিলন একসময় ফরিদপুর চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়ন ও মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ১০ জুলাই চিনিকল শ্রমিক শাহ মোহাম্মদ রাজন হত্যা মামলায় ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

রায় ঘোষণার দিনই তার ‘মির্জা মিলন’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, “আমি নির্দোষ, আইনের মধ্য দিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসব।” এর পর থেকেই তার আইডি থেকে আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চলছে।

কারাবন্দী প্রার্থীর প্রচারণা

গত ২৫ আগস্ট তার ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি পোস্ট দেওয়া হয়। একটি পোস্টে তিনি নিজেকে গত নির্বাচনের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আসন্ন নির্বাচনেও সবার সহযোগিতা, দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন। অন্য দুটি পোস্টে বড় করে নিজের ছবি দিয়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ‘দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন’ চাওয়া হয়।

জানা গেছে, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম কেনার শেষ দিন বিকেলে মিলনের ভাই মির্জা শাহরিয়া লোটাস তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। পরে মনোনয়ন ফরম কেনার ছবি মিলনের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “বাধা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আপনাদের দোয়া-আশীর্বাদে মনোনয়ন কিনতে পেরেছি।”

আইন ও গঠনতন্ত্র কী বলছে?

মিলনের ভাই মির্জা শাহরিয়া লোটাস জানান, “আমার ভাই উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। তাই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো বাধা নেই।” তিনি আরও জানান, মিলনের ফেসবুক আইডি তার ছেলে মুগ্ধ ব্যবহার করছেন।

তবে মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ মিয়া বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। যদি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ না থাকে, তবে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর কারাগারের সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, “কারাগারে থেকে কোনো কয়েদি মোবাইল বা ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন না। সম্ভবত ওই আইডি অন্য কেউ ব্যবহার করছেন।”

ফরিদপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মানিক কুমার মজুমদার এবং শাহজাহান জানান, একজনের আইডি অন্য কেউ ব্যবহার করলে তা সাইবার নিরাপত্তা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।