ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মাদ্রাসার নামে সংখ্যালঘুর জমি দখলের চেষ্টা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 493

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ চন্দ্র মণ্ডল। সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসা অভিযোগ

পলাশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, তার প্রতিবেশী হাসান প্রামাণিক ও তার সহযোগীরা ‘সুফফা’ ও ‘আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসা’-এর নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তার ৮২ শতাংশ পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। অথচ তাদের বৈধ অংশের পরিমাণ মাত্র ২০.৫০ শতাংশ। পলাশ মণ্ডলের দাবি, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে হাসান প্রামাণিক বিভিন্ন সরকারি অনুদানও আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও হাসান প্রামাণিক তা মানেননি। উল্টো তিনি নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

ইউএনও’র নির্দেশ এবং পাল্টা অভিযোগ

পরে পলাশ মণ্ডল বিচার চেয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানার কাছে গেলে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপের নির্দেশ দেন। পরিমাপ শেষে সীমানা নির্ধারণ করে পিলারও বসানো হয়।

পলাশ মণ্ডলের অভিযোগ, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান প্রামাণিক এখন ইউএনও’র বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন অভিযোগ করে তার মানহানির চেষ্টা করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, হাসান প্রামাণিক যেকোনো সময় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার জমি দখল ও পরিবারের ওপর হামলা চালাতে পারেন।

সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভাষানচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা মো. মাঈনুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, হাসান প্রামাণিক মাদ্রাসা ব্যানার ব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। অভিযুক্ত হাসান প্রামাণিক অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।

ফরিদপুরে মাদ্রাসার নামে সংখ্যালঘুর জমি দখলের চেষ্টা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ চন্দ্র মণ্ডল। সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসা অভিযোগ

পলাশ চন্দ্র মণ্ডল জানান, তার প্রতিবেশী হাসান প্রামাণিক ও তার সহযোগীরা ‘সুফফা’ ও ‘আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসা’-এর নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তার ৮২ শতাংশ পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। অথচ তাদের বৈধ অংশের পরিমাণ মাত্র ২০.৫০ শতাংশ। পলাশ মণ্ডলের দাবি, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে হাসান প্রামাণিক বিভিন্ন সরকারি অনুদানও আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও হাসান প্রামাণিক তা মানেননি। উল্টো তিনি নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

ইউএনও’র নির্দেশ এবং পাল্টা অভিযোগ

পরে পলাশ মণ্ডল বিচার চেয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানার কাছে গেলে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপের নির্দেশ দেন। পরিমাপ শেষে সীমানা নির্ধারণ করে পিলারও বসানো হয়।

পলাশ মণ্ডলের অভিযোগ, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান প্রামাণিক এখন ইউএনও’র বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন অভিযোগ করে তার মানহানির চেষ্টা করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, হাসান প্রামাণিক যেকোনো সময় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার জমি দখল ও পরিবারের ওপর হামলা চালাতে পারেন।

সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভাষানচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা মো. মাঈনুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, হাসান প্রামাণিক মাদ্রাসা ব্যানার ব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। অভিযুক্ত হাসান প্রামাণিক অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।