ফরিদপুরে উন্নয়ন কাজে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, শ্রমিকদের হুমকির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 390
ফরিদপুর পৌরসভার একটি সড়ক নির্মাণকাজ ঘিরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত তিন দিন ধরে চলা এই উত্তজনা নিরসনে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে কাজ সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
যেভাবে শুরু বিরোধ
পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৮ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। সিরাজগঞ্জের ‘মেসার্স মির্জা কনস্ট্রাকশন’ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মুরাদ শেখ অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহার শেখের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ব্যক্তি কাজে বাধা দেন।
শ্রমিক করিম আলী শেখের দাবি, অভিযুক্তরা তাদের কাজ বন্ধ করতে বলেন এবং অমান্য করলে হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেন।
বাসায় ডেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ
ঠিকাদারের প্রতিনিধি মুরাদ শেখের অভিযোগ, “কাজ বন্ধ করার কারণ জানতে বাহার শেখকে আমার বাসায় ডাকি। সেখানে বাহার ও সুব্রত নামে এক ব্যক্তি সরাসরি ঠিকাদারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। আমি বিষয়টি পৌরসভা ও ঠিকাদারকে জানিয়েছি।”
পাল্টা অভিযোগ বাহার শেখের
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বাহার শেখ দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ভিডিও করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত। মুরাদ শেখ আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকেছিলেন, আমি কোনো টাকা চাইনি। ঠিকাদার চক্র আমাকে ফাঁদে ফেলেছে।”
সরেজমিনে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাহার শেখ ও শামিম হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শ্রমিকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। তাদের দাবি, ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বালুর বদলে ময়লা মিশ্রিত মাটি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কোতোয়ালি থানার এসআই আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে কাজ সচল রাখার নির্দেশ দেয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লাইজিং হোসেন রাজু স্বীকার করেছেন যে কাজে কিছুটা অনিয়ম হয়েছিল এবং ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সেটাকে পুঁজি করে একটি গ্রুপ টাকা দাবি করছে বলে তিনি শুনেছেন।
পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সোহরাব হোসেন জানান, নিম্নমানের সামগ্রীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তবে চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি তিনি।





















