ফরিদপুরের তিন দশকের মূর্তিমান আতঙ্ক: কে এই গোলাম নাসির?
- আপডেট সময় : ১০:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 865
ফরিদপুর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম নাছির ওরফে গোলাম নাছির অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। শহরের ওয়্যারলেসপাড়ার এই বাসিন্দা গত ৩০ বছর ধরে সন্ত্রাস, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ অস্ত্রের রাজত্ব চালিয়ে ফরিদপুরবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছিলেন।
ভয়ংকর উত্থান ও অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস
৫৮ বছর বয়সী নাছির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আশির দশকের শেষে জাতীয় পার্টির ক্যাডার হিসেবে। ক্রসফায়ারে নিহত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাবু কসাইয়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে তার উত্থান ঘটে। বাবু কসাইয়ের মৃত্যুর পর তার অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার নাছিরের হাতে চলে আসে।
বিভিন্ন সময়ে তিনি ক্ষমতা বদলের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ও বদল করেছেন। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, এবং পরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। টাকার জোরে তিনি জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সর্বশেষ জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, এবং পুলিশের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনা ও গ্রেফতার
গত ৩ ও ৪ আগস্ট ফরিদপুরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে নাছিরের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় হামলায় আহতদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্লবীতে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়ার পর তাকে গণধোলাই দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার সকালে তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে।
ভোল পাল্টানোর চেষ্টা ও অবৈধ সম্পদ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোলাম নাছির রাজনৈতিক ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করেন। গত ১৬ জানুয়ারি তিনি একটি শ্রমিক ফেডারেশনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতাও উপস্থিত ছিলেন। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম নাছির গত ৩০ বছরে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার অবৈধ আয়ের উৎস ছিল পরিবহন সেক্টরের চাঁদা, মাদক ব্যবসা, চোরাই মোটরসাইকেলের সিন্ডিকেট এবং ঠিকাদারি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, “গোলাম নাছিরসহ যারা শহরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, নাছিরের অত্যাচারে শহরের বড় একটি অংশ সবসময় আতঙ্কে থাকত।





















