ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অনলাইন জুয়ার আড়ালে কোটি কোটি টাকা পাচার: গ্রেপ্তার ৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / 843

ফরিদপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এক যৌথ অভিযানে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা এবং আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে ১০৬ পিস ইয়াবা, ৪২টি গ্রামীণফোন সিমকার্ড ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিত এবং তার একটি বড় অংশ অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।

অভিযান ও আটকদের পরিচয়

১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে চক্রের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রযুক্তিগত কৌশল এবং আর্থিক লেনদেন পদ্ধতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। গত ১৪ জুলাই ভোরে মধুখালীর ডোমরাইল ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা কামরুল মিয়া (৪০) এবং তার সহযোগী অমরেশ বিশ্বাস (৩০), সোহান মালিক (২৪), হাফিজুর রহমান (৪২) ও শেখ শাকিল আহমেদ (২৬)-কে আটক করা হয়।

প্রতারণা ও পাচারের কৌশল

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা বিকাশের ভুয়া কাস্টমার কেয়ার সেজে গ্রাহকদের পিন ও ওটিপি জেনে অর্থ হাতিয়ে নিত। এরপর এই অর্থের ৫০% জুয়ার মাধ্যমে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশি অ্যাকাউন্টে পাচার করত এবং বাকি ৫০% নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত।

তারা বিভিন্ন জুয়ার সাইটে সফটওয়্যার ব্যবহার করে ‘নির্ভুল জয়’ নিশ্চিত করে অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়া, তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অবৈধ সিম সরবরাহকারী গ্রুপের মাধ্যমে ভুয়া মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট চালু রাখত।

চক্রের বিস্তৃতি ও আইনি পদক্ষেপ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শুধু ফরিদপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও এর বিস্তৃতি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই চক্রটিকে দেশের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ভয়ংকর ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আটককৃতদের মধুখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, সাইবার অপরাধ দমন আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে দেশের একটি সুসংগঠিত প্রতারণা ও পাচার চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ফরিদপুরে অনলাইন জুয়ার আড়ালে কোটি কোটি টাকা পাচার: গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এক যৌথ অভিযানে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা এবং আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে ১০৬ পিস ইয়াবা, ৪২টি গ্রামীণফোন সিমকার্ড ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিত এবং তার একটি বড় অংশ অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।

অভিযান ও আটকদের পরিচয়

১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে চক্রের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রযুক্তিগত কৌশল এবং আর্থিক লেনদেন পদ্ধতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। গত ১৪ জুলাই ভোরে মধুখালীর ডোমরাইল ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা কামরুল মিয়া (৪০) এবং তার সহযোগী অমরেশ বিশ্বাস (৩০), সোহান মালিক (২৪), হাফিজুর রহমান (৪২) ও শেখ শাকিল আহমেদ (২৬)-কে আটক করা হয়।

প্রতারণা ও পাচারের কৌশল

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা বিকাশের ভুয়া কাস্টমার কেয়ার সেজে গ্রাহকদের পিন ও ওটিপি জেনে অর্থ হাতিয়ে নিত। এরপর এই অর্থের ৫০% জুয়ার মাধ্যমে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশি অ্যাকাউন্টে পাচার করত এবং বাকি ৫০% নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত।

তারা বিভিন্ন জুয়ার সাইটে সফটওয়্যার ব্যবহার করে ‘নির্ভুল জয়’ নিশ্চিত করে অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়া, তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অবৈধ সিম সরবরাহকারী গ্রুপের মাধ্যমে ভুয়া মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট চালু রাখত।

চক্রের বিস্তৃতি ও আইনি পদক্ষেপ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শুধু ফরিদপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও এর বিস্তৃতি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই চক্রটিকে দেশের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ভয়ংকর ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আটককৃতদের মধুখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, সাইবার অপরাধ দমন আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে দেশের একটি সুসংগঠিত প্রতারণা ও পাচার চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।