ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে টাওয়ারে গুলি: বিরল ‘মদনটাক’ হত্যা, বিপাকে যুবলীগ নেতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 1216

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এয়ারগান দিয়ে গুলি করে একটি বিরল প্রজাতির পরিযায়ী পাখি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী এলাকায়।

এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছড়িয়ে দেন শেখর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুকুল মোল্লা। মুহূর্তেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে পরিযায়ী পাখি নিধন নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পাখি হত্যা ও যুবলীগ নেতার ভূমিকা

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা মুকুল মোল্লাই ভিডিওটি ছড়িয়েছেন এবং তাকে ধরলে প্রকৃত অপরাধীদের ধরা যাবে।

পাখি হত্যার ঘটনা: তেলজুড়ী গ্রামের চকপাড়া এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় আড়াই কেজি ওজনের পরিযায়ী পাখিটিকে এয়ারগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন খন্দকার ও মুরাদ।

ভিডিও ভাইরাল: পাখিটি মাটিতে পড়ার পর স্থানীয়দের ভিড় জমে। এই দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করেন যুবলীগ নেতা মুকুল মোল্লা। ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন নিহত পাখিটি ধরে দেখছেন এবং অনেকে আল আমিন ও মুরাদের নাম ধরে শিকারের বিষয়টি বলছেন। স্থানীয় ইমামের ধারণা, পাখিটি সম্ভবত মদনটাক প্রজাতির।

মুকুল মোল্লার স্বীকারোক্তি: যুবলীগ নেতা মুকুল মোল্লা জানান, তিনি সেখানে লোকজনের ভিড় দেখে কৌতূহলী হয়ে যান। তিনি স্বীকার করেন, “অতিথি পাখি নিধন ঠিক না। আইনগত অপরাধ। তাছাড়া আমার ছবি-ভিডিও করা উচিত হয়নি।”

এলাকায় পাখি শিকারের প্রবণতা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, এই এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির শত শত পরিযায়ী পাখির আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। শিকারীরা প্রায় প্রতিদিন খুব ভোরে এয়ারগান, ফাঁদ ও জাল পেতে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি নিধন করে বিক্রি করে দেয়।

প্রশাসনের কঠোর বার্তা

ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত:

ইউএনওর মন্তব্য: বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী ছবি ও ভিডিওটি দেখার কথা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি আইনগতভাবে অপরাধ।” তিনি বলেন, যারা এই কাজ করেছে তাদের খোঁজা হচ্ছে এবং শিকারীদের হাতেনাতে ধরতে পারলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

বন বিভাগের অবস্থান: ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

অভিযুক্ত আল আমিন ও মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের এলাকায় গিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরে টাওয়ারে গুলি: বিরল ‘মদনটাক’ হত্যা, বিপাকে যুবলীগ নেতা

আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এয়ারগান দিয়ে গুলি করে একটি বিরল প্রজাতির পরিযায়ী পাখি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী এলাকায়।

এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছড়িয়ে দেন শেখর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুকুল মোল্লা। মুহূর্তেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে পরিযায়ী পাখি নিধন নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পাখি হত্যা ও যুবলীগ নেতার ভূমিকা

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা মুকুল মোল্লাই ভিডিওটি ছড়িয়েছেন এবং তাকে ধরলে প্রকৃত অপরাধীদের ধরা যাবে।

পাখি হত্যার ঘটনা: তেলজুড়ী গ্রামের চকপাড়া এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় আড়াই কেজি ওজনের পরিযায়ী পাখিটিকে এয়ারগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন খন্দকার ও মুরাদ।

ভিডিও ভাইরাল: পাখিটি মাটিতে পড়ার পর স্থানীয়দের ভিড় জমে। এই দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করেন যুবলীগ নেতা মুকুল মোল্লা। ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন নিহত পাখিটি ধরে দেখছেন এবং অনেকে আল আমিন ও মুরাদের নাম ধরে শিকারের বিষয়টি বলছেন। স্থানীয় ইমামের ধারণা, পাখিটি সম্ভবত মদনটাক প্রজাতির।

মুকুল মোল্লার স্বীকারোক্তি: যুবলীগ নেতা মুকুল মোল্লা জানান, তিনি সেখানে লোকজনের ভিড় দেখে কৌতূহলী হয়ে যান। তিনি স্বীকার করেন, “অতিথি পাখি নিধন ঠিক না। আইনগত অপরাধ। তাছাড়া আমার ছবি-ভিডিও করা উচিত হয়নি।”

এলাকায় পাখি শিকারের প্রবণতা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, এই এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির শত শত পরিযায়ী পাখির আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। শিকারীরা প্রায় প্রতিদিন খুব ভোরে এয়ারগান, ফাঁদ ও জাল পেতে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি নিধন করে বিক্রি করে দেয়।

প্রশাসনের কঠোর বার্তা

ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত:

ইউএনওর মন্তব্য: বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী ছবি ও ভিডিওটি দেখার কথা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি আইনগতভাবে অপরাধ।” তিনি বলেন, যারা এই কাজ করেছে তাদের খোঁজা হচ্ছে এবং শিকারীদের হাতেনাতে ধরতে পারলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

বন বিভাগের অবস্থান: ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

অভিযুক্ত আল আমিন ও মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের এলাকায় গিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি।