ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সরকারি স্কুলেই ‘মাসিক বেতন’ জবরদস্তি: ৮ শিক্ষকের ৬ জনই ভিলেন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 447

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে—এটাই রাষ্ট্রের নিয়ম। কিন্তু ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে উল্টো পুরাণ! সেখানে নিয়ম ভেঙে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মাসিক বেতন। শুধু তাই নয়, স্কুল চলাকালীন শ্রেণিকক্ষকে ‘প্রাইভেট চেম্বারে’ রূপান্তর করে পকেট ভারী করছেন শিক্ষকরা। অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

স্কুল যখন প্রাইভেট বাণিজ্যের আখড়া:

সিনেমাটিক কায়দায় পুরো স্কুলটি নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনই নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ান। বিরতির সময় যখন শিশুদের খেলার কথা, তখন তাদের বাধ্য করা হচ্ছে কোচিং করতে। এমনকি ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে কিংবা ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে এই টাকার খেলা। অভিযোগের তিলক আরও ভারী হয়েছে যখন শোনা যায়, কোনো কোনো শিক্ষকের লালসার শিকার হতে হচ্ছে ছাত্রীদেরও—উঠেছে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ।

পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ও ‘প্যারা’ শিক্ষক থিওরি:

বিদ্যালয়টি যেন এখন দুই শিক্ষক দম্পতির ‘পারিবারিক সাম্রাজ্য’। প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার নিজে প্রাইভেট না পড়ালেও সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী হিসেবে সব দেখেও না দেখার ভান করছেন। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন এবং সাহেবুল ইসলাম নিজেদের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে স্কুলটিকে রীতিমতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তারা নিজেরা ক্লাস না নিয়ে ‘প্যারা শিক্ষক’ দিয়ে দায় সারেন আর হাজিরা দিয়ে চলে যান আড্ডা দিতে।

সরকারের কাঁধে অতিরিক্ত বিলের বোঝা:

নিয়ম ভেঙে ক্লাস টাইমের বাইরে স্কুল ভবনে প্রাইভেট পড়ানোর ফলে প্রতি মাসে সরকারকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল। অথচ সেই সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পকেট গরম করছেন এই অসাধু শিক্ষকরা।

অভিভাবকদের আর্তনাদ:

একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক ক্ষোভের সাথে জানান, “বাংলাদেশে এমন কোনো সরকারি স্কুল নেই যেখানে বেতন দিতে হয়। এই স্কুলটা এখন একটা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হয়ে গেছে। প্রতিবাদের সাহস পাই না, কারণ সাহেবুল স্যার রাজনৈতিক নেতা আর খালিদ স্যার স্থানীয় প্রভাবশালী।”

কর্তৃপক্ষের আলটিমেটাম:

এই মহোৎসবের খবর পৌঁছেছে প্রশাসনের কানেও। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেম উদ্দিন কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিনও ঘটনার সত্যতা পেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, এই ‘শিক্ষা দস্যুদের’ হাত থেকে কোমলমতি শিশুরা মুক্তি পায় কি না!

ফরিদপুরে সরকারি স্কুলেই ‘মাসিক বেতন’ জবরদস্তি: ৮ শিক্ষকের ৬ জনই ভিলেন

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে—এটাই রাষ্ট্রের নিয়ম। কিন্তু ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে উল্টো পুরাণ! সেখানে নিয়ম ভেঙে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মাসিক বেতন। শুধু তাই নয়, স্কুল চলাকালীন শ্রেণিকক্ষকে ‘প্রাইভেট চেম্বারে’ রূপান্তর করে পকেট ভারী করছেন শিক্ষকরা। অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

স্কুল যখন প্রাইভেট বাণিজ্যের আখড়া:

সিনেমাটিক কায়দায় পুরো স্কুলটি নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনই নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ান। বিরতির সময় যখন শিশুদের খেলার কথা, তখন তাদের বাধ্য করা হচ্ছে কোচিং করতে। এমনকি ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে কিংবা ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে এই টাকার খেলা। অভিযোগের তিলক আরও ভারী হয়েছে যখন শোনা যায়, কোনো কোনো শিক্ষকের লালসার শিকার হতে হচ্ছে ছাত্রীদেরও—উঠেছে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ।

পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ও ‘প্যারা’ শিক্ষক থিওরি:

বিদ্যালয়টি যেন এখন দুই শিক্ষক দম্পতির ‘পারিবারিক সাম্রাজ্য’। প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার নিজে প্রাইভেট না পড়ালেও সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী হিসেবে সব দেখেও না দেখার ভান করছেন। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন এবং সাহেবুল ইসলাম নিজেদের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে স্কুলটিকে রীতিমতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তারা নিজেরা ক্লাস না নিয়ে ‘প্যারা শিক্ষক’ দিয়ে দায় সারেন আর হাজিরা দিয়ে চলে যান আড্ডা দিতে।

সরকারের কাঁধে অতিরিক্ত বিলের বোঝা:

নিয়ম ভেঙে ক্লাস টাইমের বাইরে স্কুল ভবনে প্রাইভেট পড়ানোর ফলে প্রতি মাসে সরকারকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল। অথচ সেই সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পকেট গরম করছেন এই অসাধু শিক্ষকরা।

অভিভাবকদের আর্তনাদ:

একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক ক্ষোভের সাথে জানান, “বাংলাদেশে এমন কোনো সরকারি স্কুল নেই যেখানে বেতন দিতে হয়। এই স্কুলটা এখন একটা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হয়ে গেছে। প্রতিবাদের সাহস পাই না, কারণ সাহেবুল স্যার রাজনৈতিক নেতা আর খালিদ স্যার স্থানীয় প্রভাবশালী।”

কর্তৃপক্ষের আলটিমেটাম:

এই মহোৎসবের খবর পৌঁছেছে প্রশাসনের কানেও। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেম উদ্দিন কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিনও ঘটনার সত্যতা পেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, এই ‘শিক্ষা দস্যুদের’ হাত থেকে কোমলমতি শিশুরা মুক্তি পায় কি না!