ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রের পচা লাশ উদ্ধার: নেপথ্যে মুক্তিপণ, গ্রেপ্তার ২

শেখ সালমান আহমেদ, ফরিদপুরঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 615

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর তামিম তালুকদার (১১) নামের এক স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিপণের দাবিতে শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত তামিম বড় গোপালদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

যেভাবে ঘটল ঘটনা

তামিমের পরিবার জানায়, ১৫ আগস্ট, শুক্রবার বিকেলে তামিম বাড়ি থেকে ঘুরতে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। সন্ধ্যার পর তার খোঁজ শুরু হলে একপর্যায়ে তুহিন শেখের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হয়, কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত নম্বর থেকে পরিবারের কাছে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটির জীবন রক্ষা হয়নি।

পুলিশের অভিযান ও মরদেহ উদ্ধার

পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মধুখালী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে বিশেষ অভিযান শুরু করে। ১৮ আগস্ট রাতে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বড়গাতি গ্রাম থেকে প্রধান সন্দেহভাজন তুহিন শেখকে আটক করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন তার অপরাধের কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাঁশপুর গ্রামের একটি জমির আইল থেকে আবর্জনার নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়।

ঘাতক ও স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয়রা জানান, প্রধান আসামি তুহিন প্রায় এক বছর আগে তামিমদের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে আবার ওই গ্রামে এসে তামিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় এবং ঘটনার দিন তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। মুক্তিপণের জন্যই শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ আটক দুই আসামিকে ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রের পচা লাশ উদ্ধার: নেপথ্যে মুক্তিপণ, গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর তামিম তালুকদার (১১) নামের এক স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিপণের দাবিতে শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত তামিম বড় গোপালদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

যেভাবে ঘটল ঘটনা

তামিমের পরিবার জানায়, ১৫ আগস্ট, শুক্রবার বিকেলে তামিম বাড়ি থেকে ঘুরতে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। সন্ধ্যার পর তার খোঁজ শুরু হলে একপর্যায়ে তুহিন শেখের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হয়, কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত নম্বর থেকে পরিবারের কাছে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটির জীবন রক্ষা হয়নি।

পুলিশের অভিযান ও মরদেহ উদ্ধার

পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মধুখালী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে বিশেষ অভিযান শুরু করে। ১৮ আগস্ট রাতে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বড়গাতি গ্রাম থেকে প্রধান সন্দেহভাজন তুহিন শেখকে আটক করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন তার অপরাধের কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাঁশপুর গ্রামের একটি জমির আইল থেকে আবর্জনার নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়।

ঘাতক ও স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয়রা জানান, প্রধান আসামি তুহিন প্রায় এক বছর আগে তামিমদের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে আবার ওই গ্রামে এসে তামিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় এবং ঘটনার দিন তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। মুক্তিপণের জন্যই শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ আটক দুই আসামিকে ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।