ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের যৌনপল্লী যেন নির্যাতন কেন্দ্র: নিপীড়নের শিকার শত শত নারী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 1036

ফরিদপুর শহরের দুটি যৌনপল্লীর প্রায় সাড়ে চারশো যৌনকর্মী প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনি সহায়তার অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সিএন্ডবি ঘাট ও রথখোলা পল্লীর এই নারীরা অভিযোগ করছেন যে, তাদের কাছ থেকে সঠিক সম্মতি না নিয়েই প্রায়শই জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো হয়, কিন্তু প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলে না।

নিরাপত্তাহীনতা ও আইনি সুরক্ষার অভাব

যৌনকর্মীরা জানান, তাদের জীবন-জীবিকার জন্য কাজ করলেও তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। অনেকেই জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করেন, আর প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়। এক যৌনকর্মী (ছদ্ম নাম সোনিয়া আক্তার, ২৬) বলেন, “আমাদের জীবনে নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। অথচ থানায় গেলে আমাদের কথাই কেউ শোনে না।”

আরেকজন বলেন, “সম্মতি ছাড়া আমাদের ব্যবহার করা হয়। আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন বলা হয় এটাই আমাদের কাজ। কিন্তু কাজ আর নিপীড়ন কি এক জিনিস?”

শোষণ ও বাধা: নেপথ্যে কারা?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যৌনকর্মীদের অধিকার ও সুবিধার সবচেয়ে বড় বাধা আসে পল্লীর ভেতরের থেকেই। অনেক সময় পল্লীর বাড়িওয়ালী ও সর্দারনীরা যৌনকর্মীদের অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত করেন বা ভয় দেখান। ফলে এই অসহায় নারীরা সঠিক সময়ে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতেই পারেন না।

মানবাধিকার কর্মীদের আহ্বান

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যৌনকর্মীদেরও একজন নাগরিকের মতো অধিকার রয়েছে। তাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি। নারী ও মানবাধিকার কর্মী তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “সম্মতি ছাড়া কোনো সম্পর্ক জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।”

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শাপলা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল জানান, তাদের দীর্ঘ এক যুগের অভিজ্ঞতা থেকে তারা দেখেছেন যে, পাচার কমে গেলেও এই অসহায় ও দরিদ্র যৌনকর্মীদের অধিকার ও সেবা বঞ্চনার অবসান এখনো হয়নি। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকিতে থেকে যাবে।

ফরিদপুরের যৌনপল্লী যেন নির্যাতন কেন্দ্র: নিপীড়নের শিকার শত শত নারী

আপডেট সময় : ১০:০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর শহরের দুটি যৌনপল্লীর প্রায় সাড়ে চারশো যৌনকর্মী প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনি সহায়তার অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সিএন্ডবি ঘাট ও রথখোলা পল্লীর এই নারীরা অভিযোগ করছেন যে, তাদের কাছ থেকে সঠিক সম্মতি না নিয়েই প্রায়শই জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো হয়, কিন্তু প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলে না।

নিরাপত্তাহীনতা ও আইনি সুরক্ষার অভাব

যৌনকর্মীরা জানান, তাদের জীবন-জীবিকার জন্য কাজ করলেও তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। অনেকেই জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করেন, আর প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়। এক যৌনকর্মী (ছদ্ম নাম সোনিয়া আক্তার, ২৬) বলেন, “আমাদের জীবনে নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। অথচ থানায় গেলে আমাদের কথাই কেউ শোনে না।”

আরেকজন বলেন, “সম্মতি ছাড়া আমাদের ব্যবহার করা হয়। আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন বলা হয় এটাই আমাদের কাজ। কিন্তু কাজ আর নিপীড়ন কি এক জিনিস?”

শোষণ ও বাধা: নেপথ্যে কারা?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যৌনকর্মীদের অধিকার ও সুবিধার সবচেয়ে বড় বাধা আসে পল্লীর ভেতরের থেকেই। অনেক সময় পল্লীর বাড়িওয়ালী ও সর্দারনীরা যৌনকর্মীদের অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত করেন বা ভয় দেখান। ফলে এই অসহায় নারীরা সঠিক সময়ে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতেই পারেন না।

মানবাধিকার কর্মীদের আহ্বান

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যৌনকর্মীদেরও একজন নাগরিকের মতো অধিকার রয়েছে। তাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি। নারী ও মানবাধিকার কর্মী তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “সম্মতি ছাড়া কোনো সম্পর্ক জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।”

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শাপলা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল জানান, তাদের দীর্ঘ এক যুগের অভিজ্ঞতা থেকে তারা দেখেছেন যে, পাচার কমে গেলেও এই অসহায় ও দরিদ্র যৌনকর্মীদের অধিকার ও সেবা বঞ্চনার অবসান এখনো হয়নি। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকিতে থেকে যাবে।