ফরিদপুরে শিক্ষিকা স্কুলে নেই, নিয়মিত তুলছেন বেতন
- আপডেট সময় : ১১:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / 543
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ২৮ নং ত্রিপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খায়রুন নেছা নূরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন এবং সরকারি বেতন তুলে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা মৌলিক পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অনিয়মিত উপস্থিতি ও তার প্রভাব
২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি খায়রুন নেছা নূরী বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর প্রাথমিক কিছু দিন নিয়মিত থাকলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির ধারা শুরু হয়। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মোট ৩ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। মে মাসে ১২ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত কোনো প্রকার ছুটির আবেদন ছাড়াই তিনি স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। জুলাই মাসে ২ তারিখে স্কুলে উপস্থিত থাকার পর ১৪ জুলাই পর্যন্ত আবার তিনি স্কুলে আসেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকর্মী শিক্ষকরা জানান, শিক্ষিকার এমন লাগাতার অনুপস্থিতির কারণে তার ক্লাসে পড়ানো বিষয়গুলো ঠিকভাবে কাভার করা যাচ্ছে না। অন্য শিক্ষকরা চেষ্টা করলেও, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন একজন শিক্ষককে ৫টি বিষয়ভিত্তিক ক্লাস (প্রতিটি ৫০ মিনিট) নিতে হয়, কিন্তু খায়রুন নেছা নূরীর অনুপস্থিতির কারণে এই সময়গুলো অপচয় হচ্ছে এবং শিশুরা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়ারেজ আলী খান বলেন, “তার এমন অনুপস্থিতির কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কাউকে না জানিয়ে, কোনো অনুমতি না নিয়েই সে দিনের পর দিন স্কুলে আসে না। বিষয়টি আমি শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছি।”
বোয়ালমারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদ হাচান বলেন, “একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তবে তার এভাবে অনুপস্থিতির কারণে অন্যান্য শিক্ষকদের মাঝে ভুল বার্তা যায়। শুনেছি মে মাসে সে ১৬ দিন স্কুলে আসেনি, যার জন্য তার ৫ দিনের বেতন কাটা হয়েছে। এটা আমি মনে করি অপরাধের চেয়ে তুলনামূলক শাস্তি কম। আসলে এটাই আমাদের করার কিছু নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এর ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযুক্ত শিক্ষিকার নীরবতা ও শিক্ষা অফিসের পদক্ষেপ
অভিযুক্ত শিক্ষিকা খায়রুন নেছা নূরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাকে বিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু আহাদ মিঞা জানান, “মে মাসে টানা ১৬ দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছিল এবং ৫ দিনের বেতন কাটা হয়। এরপরও জুলাই মাসে আবার অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। এবার তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় শিক্ষকমহল এবং অভিভাবকরা এই ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী যেভাবে দায়িত্বহীনভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করছেন, তা সারা দেশের শিক্ষকদের জন্যই অপমানজনক দৃষ্টান্ত।





















