ফরিদপুরের ট্রিপল মার্ডার: সামনে স্বামী-শাশুড়ির পরকীয়া
- আপডেট সময় : ০৬:০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
- / 1598
ফরিদপুর সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে পাঁচ বছর বয়সী শিশু হুজাইফাকে গলা কেটে হত্যা এবং তার গর্ভবতী মা সুমাইয়া বেগমের (২৩) ‘আত্মহত্যার’ মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন নিহতের বাবার বাড়ির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের অভিযোগ, সুমাইয়ার স্বামী রমজান শেখ এবং সুমাইয়ার নিজের মা’র অবৈধ সম্পর্কের কারণেই এই ট্রিপল মার্ডারের (গর্ভের সন্তানসহ তিনজনের মৃত্যু) ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সুমাইয়া ও তাঁর ছেলে হুজাইফার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুমাইয়ার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম হওয়ার মাত্র ৬ দিন আগে এই ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক রহস্য উন্মোচিত হবে কিনা, তা নিয়ে নিহতের নিজ এলাকার জনগণ সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ: আত্মহত্যা নয়, এটি ছিল হত্যাকাণ্ড
নিহত সুমাইয়া বেগমের (২৩) বাবার বাড়ির (কৈজুরি ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রাম) পাড়া প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়দের দাবি, সুমাইয়া কখনোই এমন চরম পদক্ষেপ (আত্মহত্যা ও সন্তান হত্যা) নিতে পারেন না।
কারা সন্দেহে: এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডে সুমাইয়ার স্বামী রমজান শেখ এবং অবাক করার মতো বিষয় হলো, সুমাইয়ার নিজের মা’কেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন।
পরকীয়ার অভিযোগ: স্বজনদের অভিযোগ, সুমাইয়ার মা ও সুমাইয়ার স্বামীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল, যা স্থানীয় অনেকেই জানতেন। সুমাইয়ার সংসারের কথা চিন্তা করে তাঁরা এতদিন মুখ খোলেননি।
মামলা না করার কারণ: তাঁদের অভিযোগ, সুমাইয়ার মা মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন এবং এখন মেয়ের স্বামীর পক্ষ নিচ্ছেন, যাতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হয়। সুমাইয়ার মা এখন মেয়ের স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন এবং রমজান শেখ যেন মামলায় না জড়ান, সেদিকে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।
স্বজনরা বলেন, তিন-চার মাস আগেও সুমাইয়ার মা জামাই ভালো না বলে অভিযোগ করতেন, কিন্তু এখন ভোল পাল্টেছেন। তাঁরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই ট্রিপল মার্ডারের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্বামী রমজান শেখের অস্পষ্ট স্বীকারোক্তি
নিহত সুমাইয়ার স্বামী রমজান শেখ প্রথমে অভিযোগগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনা মীমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করেননি।
রমজানের বক্তব্য: তিনি ‘দৈনিক বাংলা ৭১’ কে বলেন, “এইটা আমি জানিনা, এইটায় আরও লোক আছে।” তবে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
হত্যা ও মামলার বাদি: নিজে হত্যা করে নিজেই মামলার বাদি হয়েছেন কিনা—এই অভিযোগ তিনি তদন্তের কথা বলে এড়িয়ে যান।
পুলিশ যা বলছে
রমজান শেখের পক্ষ থেকে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টার বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায়।
ওসি’র অবস্থান: ওসি জানান, এমন একটি মামলা এভাবে মীমাংসা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিহত গর্ভবতী সুমাইয়ার ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হবে।
তদন্ত কর্মকর্তার দৃঢ়তা: মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আলমগীর জানান, টাকা লেনদেন তাঁর তদন্তের বিষয় নয়। তিনি বলেন, “আমরা সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় রহস্য উন্মোচিত করবো… এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে যে কেউ আসামি হতে যেতে পারে।”
উল্লেখ্য, রমজান শেখের অভিযোগের ভিত্তিতে সুমাইয়ার আত্মহত্যা ও সন্তান হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু বাবার বাড়ির স্বজনদের দাবি, এটি ছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড।





















