ফরিদপুর দুধের শিশুকে ফেলে নিখোঁজ শিক্ষিকা, থানায় ‘নতুন রহস্য
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / 522
ফরিদপুর সিটি কলেজের শিক্ষিকা সাবজান নাহার গত ২১ অক্টোবর সকালে তাঁর ১১ মাসের শিশুকন্যাকে স্বামীর কাছে রেখে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বামী রাজা মিয়া কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার আগেই শিক্ষিকা উল্টো স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গেছেন।
প্রায় কুড়ি দিন পেরিয়ে গেলেও সাবজান নাহারের কোনো সন্ধান মেলেনি, ফলে এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নানা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার আগে স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ
সাবজান নাহার নিখোঁজ হওয়ার দিনেই কোতোয়ালি থানায় তাঁর স্বামী রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে যান এবং কর্মস্থল থেকে এক মাসের ছুটিও নেন।
অভিযোগের মূল বিষয়:
চার বছর আগে বিয়ের পর সংসারের সকল দায়দায়িত্ব তিনিই বহন করছেন।
বিদেশে যাওয়ার জন্য রাজা মিয়া তাঁর কাছ থেকে মোট ১৮ লাখ টাকা দাবি করেন (আগে ১ লাখ টাকা নিয়েছেন, পরে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন)।
টাকা না দিলে খুন করার হুমকি দেন।
রাজা মিয়া মাদক সেবন করতেন এবং টাকা না পেলে গালিগালাজ ও গায়ে হাত তুলতেন।
প্রাণনাশের ভয়ে তিনি তাঁর বৃদ্ধা মাকে ঢাকায় বোনের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
স্বামীর জিডি ও পরকীয়ার সন্দেহ
স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার পর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা জিডিতে স্বামী রাজা মিয়া ভিন্ন তথ্য দেন:
টাকা নিয়ে পলায়ণ: রাজা মিয়া জানান, সাবজান নাহার ২১ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে মেয়েকে বাসায় রেখে বের হন এবং বিদেশে যাওয়ার জন্য জমানো ১০ লাখ টাকাও নিয়ে গেছেন।
পরকীয়ার অভিযোগ: বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে তিনি সন্দেহ করছেন, তাঁর স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে অন্য কোনো ছেলের সাথে দূরে কোথাও চলে গেছেন।
রহস্যের জালে শিক্ষিকার ব্যক্তিগত জীবন
তদন্তে জানা গেছে, সাবজান নাহারের ব্যক্তিগত জীবন একাধিক জটিলতায় পূর্ণ ছিল:
তৃতীয় স্বামী: রাজা মিয়া তাঁর তৃতীয় স্বামী। এর আগের তালাকপ্রাপ্ত দুই স্বামীর ঘরে তাঁর আরও দুটি মেয়ে রয়েছে।
ছেড়ে যাওয়া সন্তান: দুই-আড়াই বছর বয়স থাকাকালীন ওই মেয়েদের স্বামীর ঘরে রেখেই তিনি তালাক নেন এবং এরপর তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে জন্ম নেওয়া মেয়েটি বর্তমানে মা-বাবা থাকা সত্ত্বেও একটি এতিমখানায় প্রতিপালিত হচ্ছে।
পুলিশের তৎপরতা ও শিশুর উদ্বেগ
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সাবজান নাহারের ফোন বন্ধ এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। তাঁর ঢাকায় অবস্থানরত বোন শিপনও দীর্ঘ দিন ধরে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, সাবজান নাহারের লিখিত অভিযোগ এবং স্বামীর জিডি—পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বারবার চেষ্টা করেও নিখোঁজ সাবজান নাহারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।
এদিকে, মাতৃদুগ্ধবঞ্চিত ১১ মাসের শিশুটির খবর জানতে পেরে একটি স্বেচ্ছাসেবী দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টিম মেম্বার আবরার নাদিম ইতু বলেন, স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বে বাচ্চাটি বঞ্চনার শিকার হচ্ছে, যার মায়ের স্নেহ-মায়া পাওয়ার অধিকার রয়েছে।





















