গোপালগঞ্জ: ৫ মৃত্যু, ৫৪০০ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে ৪ হত্যা মামলা
- আপডেট সময় : ০৭:১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / 363
গোপালগঞ্জ, ২১ জুলাই ২০২৫ (রবিবার) – গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলা-সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ৪টি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গত শনিবার রাতে সদর থানার চারজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মামলাগুলো করেছেন। এই মামলাগুলোতে মোট ৫ হাজার ৪০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যার অভিযোগ ও আসামিদের পরিচয়
প্রথম আলোর কাছে হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৮৬, ১৫৩, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গোপালগঞ্জে চলমান সংঘাত-সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন:
গোপালগঞ্জ পৌরসভার উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫)
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সোহেল রানা মোল্লা (৩৫)
কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী (১৮)
ভেড়ার বাজার ব্যাপারীপাড়া এলাকার ইমন তালুকদার (১৮)
থানাপাড়া এলাকার রমজান মুন্সী (৩৫)
এদের মধ্যে দীপ্ত সাহা, সোহেল রানা মোল্লা, রমজান কাজী এবং ইমন তালুকদারের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোহেল হত্যা মামলার বাদী এসআই আবুল কালাম আজাদ, দীপ্ত সাহা হত্যা মামলার বাদী এসআই শামীম হোসেন, এবং ইমন হত্যা মামলার বাদী এসআই শেখ মিজানুর রহমান। এই তিনটি হত্যা মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমজান কাজী হত্যা মামলা করেছেন এসআই মো. আইয়ুব আলী এবং এই মামলায় ৯০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে রমজান মুন্সীর মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
আগের ৪ মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান
এর আগে, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মোট চারটি মামলা করেছিল পুলিশ। গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া থানায় এসব মামলা করা হয়। এই চারটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৩৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২ হাজার ৬৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।
সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার থেকে আজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৩২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, সদর থানায় নতুন ৯ জনসহ মোট ১০১ জন, কাশিয়ানীতে ৭৭ জন, মুকসুদপুরে ৮৮ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ২৭ জন ও কোটালীপাড়ায় নতুন ছয়জনসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও চলমান পরিস্থিতি
গত বুধবার এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা হামলা চালায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং অর্ধশতাধিক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান। রাতেই জারি করা হয় কারফিউ, যা পরবর্তীতে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।





















