ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপি পদযাত্রা ঠেকাতে রাজপথে নারী-পুরুষ, আগুন-ভাঙচুর, ইন্টারনেট বন্ধ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 297

গোপালগঞ্জ, ১৬ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদর এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এনসিপিকে রুখতে দল-মত নির্বিশেষে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, এমনকি অবিবাহিত মেয়েরাও রাজপথে নেমে এসেছে। ‘যাবে জীবন চলে যাক, এনসিপি সব নিপাত যাক’—এমন স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে গোপালগঞ্জ সদর। সড়ক অবরোধ, গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা, এমনকি পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এনসিপি ঠেকাতে সর্বস্তরের প্রতিরোধ

গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সভাকে বন্ধ করতে এবং কোনো নেতাকর্মী যাতে জেলায় ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে শত শত নারী-পুরুষ প্রধান প্রধান সড়ক তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। শহর থেকে উপশহর, উপশহর থেকে শহরের পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের মধ্যে চলছে এনসিপি বিরোধী স্লোগান। পিঁপড়ের সারির মতো নারীদের নেতৃত্বেও মিছিল দেখা গেছে, যেখানে বয়স্ক নারীদের পাশাপাশি বিবাহযোগ্যা মেয়েরাও অংশ নিয়েছে। তাদের মুখে একটাই স্লোগান—”যাবে জীবন চলে যাক, এনসিপি সব নিপাত যাক”।

টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর, কাশিয়ানি, টেকেরহাট, সালথা, নগরকান্দা এবং ভাঙ্গা থেকে দলে দলে যাত্রী সেজে বহু মানুষ গোপালগঞ্জে ছুটে এসে এই প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে, ফলে পুরো জেলা সদর এখন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

বুধবার (১৬ জুলাই, ২০২৫) সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার এবং মিনহাজ সহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই দিনে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসানের গাড়িবহরেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইউএনও নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, এনসিপি’র পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই সকল ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশের সামনেই পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং ইউএনও’র গাড়িতে ইটপাটকেল ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ফোর্সের অভাবে তারা সরাসরি প্রতিরোধ করতে পারেননি, কারণ এতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ইন্টারনেট বন্ধ ও গোপালগঞ্জের বর্তমান চিত্র

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোপালগঞ্জের ইন্টারনেট সেবা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে গাছের গুঁড়ি বিছিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ এখন একটি বিপদগামী জনপদে পরিণত হয়েছে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নন, তবে পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ আশঙ্কা ও বিএনপির নীরবতা

এই ঘটনার রেশ ধরে আগামীকাল (১৭ জুলাই, ২০২৫) ফরিদপুরে এনসিপি’র একটি প্রোগ্রাম থাকায় ফরিদপুর সদর থানার জনতা ব্যাংকের মোড়েও নিরাপত্তার বিষয়টি সাধারণ জনতার কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে জানিয়েছেন সময় হলে কথা বলবেন। গোপালগঞ্জবাসী এনসিপি’র বিরুদ্ধে ইস্পাতের চেয়েও শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তুলেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে।

এনসিপি পদযাত্রা ঠেকাতে রাজপথে নারী-পুরুষ, আগুন-ভাঙচুর, ইন্টারনেট বন্ধ

আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জ, ১৬ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদর এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এনসিপিকে রুখতে দল-মত নির্বিশেষে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, এমনকি অবিবাহিত মেয়েরাও রাজপথে নেমে এসেছে। ‘যাবে জীবন চলে যাক, এনসিপি সব নিপাত যাক’—এমন স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে গোপালগঞ্জ সদর। সড়ক অবরোধ, গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা, এমনকি পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এনসিপি ঠেকাতে সর্বস্তরের প্রতিরোধ

গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সভাকে বন্ধ করতে এবং কোনো নেতাকর্মী যাতে জেলায় ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে শত শত নারী-পুরুষ প্রধান প্রধান সড়ক তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। শহর থেকে উপশহর, উপশহর থেকে শহরের পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের মধ্যে চলছে এনসিপি বিরোধী স্লোগান। পিঁপড়ের সারির মতো নারীদের নেতৃত্বেও মিছিল দেখা গেছে, যেখানে বয়স্ক নারীদের পাশাপাশি বিবাহযোগ্যা মেয়েরাও অংশ নিয়েছে। তাদের মুখে একটাই স্লোগান—”যাবে জীবন চলে যাক, এনসিপি সব নিপাত যাক”।

টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর, কাশিয়ানি, টেকেরহাট, সালথা, নগরকান্দা এবং ভাঙ্গা থেকে দলে দলে যাত্রী সেজে বহু মানুষ গোপালগঞ্জে ছুটে এসে এই প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে, ফলে পুরো জেলা সদর এখন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

বুধবার (১৬ জুলাই, ২০২৫) সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার এবং মিনহাজ সহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই দিনে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসানের গাড়িবহরেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইউএনও নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, এনসিপি’র পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই সকল ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশের সামনেই পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং ইউএনও’র গাড়িতে ইটপাটকেল ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ফোর্সের অভাবে তারা সরাসরি প্রতিরোধ করতে পারেননি, কারণ এতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ইন্টারনেট বন্ধ ও গোপালগঞ্জের বর্তমান চিত্র

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোপালগঞ্জের ইন্টারনেট সেবা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে গাছের গুঁড়ি বিছিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ এখন একটি বিপদগামী জনপদে পরিণত হয়েছে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নন, তবে পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ আশঙ্কা ও বিএনপির নীরবতা

এই ঘটনার রেশ ধরে আগামীকাল (১৭ জুলাই, ২০২৫) ফরিদপুরে এনসিপি’র একটি প্রোগ্রাম থাকায় ফরিদপুর সদর থানার জনতা ব্যাংকের মোড়েও নিরাপত্তার বিষয়টি সাধারণ জনতার কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে জানিয়েছেন সময় হলে কথা বলবেন। গোপালগঞ্জবাসী এনসিপি’র বিরুদ্ধে ইস্পাতের চেয়েও শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তুলেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে।