শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 534
নোয়াখালী নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নির্বাচনী বিরোধের জেরে এক তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ঢুকে ধর্ষণ ও পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হওয়া ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
যেভাবে ঘটে এই বর্বরতা
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নলেরচর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে তাদের ঘরে তিন ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। হামলাকারীরা তার স্বামীকে বেঁধে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে ‘রহমান’ নামের একজন তাকে ধর্ষণ করেন এবং ‘কালা এমরান’সহ অন্য একজন দরজায় পাহারায় ছিলেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।
দ্বিতীয় দফায় হামলা ও ভাঙচুর
গৃহবধূর ভাষ্যমতে, ধর্ষণের ঘটনার পর শনিবার সকালে ফের ৫০ থেকে ১০০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ও দরজা ভাঙচুর করে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে শারীরিক নির্যাতন করে। মারধরের ফলে তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না।
চিকিৎসকের বক্তব্য
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান:
‘গত রাত ১১টার দিকে হাতিয়া থেকে আসা এক নারী যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ করেছেন। আমরা তাকে গাইনি বিভাগে ভর্তি করেছি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জানানো হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাতিয়া আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি ঘটনাটি সঠিক নয়, এটি একটি সাজানো ঘটনা।’ তবে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।





















