ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কৃষক দলের পদে যুবলীগ নেতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 670

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতাকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত নেতার নাম মো. রাজু মোল্লা, যিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিতর্কের সূত্রপাত:

গত রোববার (১৪ মার্চ) রাতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ফরিদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রাজু মোল্লাকে ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এই খবর ও সংশ্লিষ্ট চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তৃণমূলের আক্ষেপ ও ফেসবুক স্ট্যাটাস:

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা শরীফ সোহান। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “এতদিন ত্যাগীরা ভেবেছিল কমিটি তাদের দিয়েই হবে। রাজু মোল্লাকে দিয়ে যদি অনুপ্রবেশকারীদের সূচনা করা হয়, তবে অন্যদের দোষ কোথায়? এভাবে লীগ থেকে আসারা সুযোগ পেলে ত্যাগীরা পিছিয়ে পড়বে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এখনই যদি এসব না থামানো হয়, তবে দলের দুর্দিন আসতে সময় লাগবে না।

অনুপ্রবেশকারী ও টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ:

সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজু মোল্লা গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কাজী জাফর উল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে ভিড়ে যান এবং খুব অল্প সময়েই পদ বাগিয়ে নেন। অনেকে এই পদ পাওয়ার পেছনে ‘টাকার বাণিজ্য’ কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

দলের শীর্ষ মহলের অবস্থান:

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, যুবলীগ থেকে এসেই পদ পাওয়াটা দলের আদর্শের পরিপন্থী। তবে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মির্জা ইমরান হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের এই বিষয়ে লেখালেখি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলার সুযোগ নেই।

ফরিদপুরে কৃষক দলের পদে যুবলীগ নেতা

আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতাকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত নেতার নাম মো. রাজু মোল্লা, যিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিতর্কের সূত্রপাত:

গত রোববার (১৪ মার্চ) রাতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ফরিদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রাজু মোল্লাকে ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এই খবর ও সংশ্লিষ্ট চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তৃণমূলের আক্ষেপ ও ফেসবুক স্ট্যাটাস:

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা শরীফ সোহান। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “এতদিন ত্যাগীরা ভেবেছিল কমিটি তাদের দিয়েই হবে। রাজু মোল্লাকে দিয়ে যদি অনুপ্রবেশকারীদের সূচনা করা হয়, তবে অন্যদের দোষ কোথায়? এভাবে লীগ থেকে আসারা সুযোগ পেলে ত্যাগীরা পিছিয়ে পড়বে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এখনই যদি এসব না থামানো হয়, তবে দলের দুর্দিন আসতে সময় লাগবে না।

অনুপ্রবেশকারী ও টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ:

সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজু মোল্লা গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কাজী জাফর উল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে ভিড়ে যান এবং খুব অল্প সময়েই পদ বাগিয়ে নেন। অনেকে এই পদ পাওয়ার পেছনে ‘টাকার বাণিজ্য’ কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

দলের শীর্ষ মহলের অবস্থান:

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, যুবলীগ থেকে এসেই পদ পাওয়াটা দলের আদর্শের পরিপন্থী। তবে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মির্জা ইমরান হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের এই বিষয়ে লেখালেখি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলার সুযোগ নেই।