ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতার সংবাদ সম্মেলনে হামলা: নারীসহ আহত ৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
  • / 1132

ফরিদপুর জেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন নিজের বাড়ির প্রবেশপথ আটকে বেড়া দেওয়ার অভিযোগ জানাতে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার (২৩ জুন, ২০২৫) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এই হামলায় তার পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পিঞ্জিরা বেগম (৪০) কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন, যার পৈত্রিক বাড়ি ও নানা বাড়ি পাশাপাশি অবস্থিত, বর্তমানে নানা বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। সম্প্রতি তার নানা বাড়ির প্রবেশপথে জোরপূর্বক বেড়া নির্মাণের জন্য খুঁটি গেড়েছে প্রতিপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলন ও হামলার বিবরণ

সংবাদ সম্মেলনে আনা ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, “আওয়ামী লীগের দোসর, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী পুলিশ এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জোরপূর্বক এতিমদের ভূমি দখল করে বিএনপি নেতার প্রতি মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করে সমাজে নানা প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।”

যখন অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন লিখিত বক্তব্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ আলতাফ হোসেন (৭০) সহ কয়েকজন এসে বাঁধা দেন। এ সময় একজন ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আলতাফ হোসেন ও তার লোকজন সুলায়মান হোসাইনের পরিবারের সকলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। প্রতিপক্ষের মারধরে তার খালা পিঞ্জিরা বেগম গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন নিজেও মাটিতে ফেলে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

এতিমদের ভূমি দখল ও বিচার দাবি

হামলার পর সংবাদ সম্মেলনে সুলায়মান হোসাইন জানান, তার বয়স যখন ৭ বছর এবং বোনের বয়স ৭ মাস, তখন তাদের বাবা মারা যান। এতিম হয়ে পড়লে তারা দুই ভাইবোন নানার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ওই সময়ে তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেন তার বড় ভাই আলতাফ হোসেন। তারা বড় হওয়ার পরে জমি উদ্ধারে কাজ করতে গেলে আলতাফ হোসাইন ও তার ছেলে পুলিশের এএসআই ইউসুফ হোসেন নূর অত্যাচার ও হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

সুলায়মান হোসাইন তার নানা বাড়ির প্রবেশপথে জোরপূর্বক বেড়া নির্মাণের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে এর সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

পাল্টা অভিযোগ প্রতিপক্ষের: ‘মিথ্যা মামলা ও হয়রানি’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের পিতা আলতাফ হোসেন সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ওর (সুলায়মানের) বাবার পারিবারিক ঝামেলার সময় বাড়ির জমি আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে আমার সম্পত্তিতে বেড়া দিয়েছি। কয়েকবার মাপঝোঁপ করেও দেখা হয়েছে।”

তিনি আরও পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৭ বছর যাবৎ আমরা বিএনপির নির্যাতিত পরিবার। বিভিন্ন সময় জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এই সুলায়মান আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে মিশে আমাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়েছে।” আলতাফ হোসেন দাবি করেন, “আজ আমার ছেলেকে সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের দোসর বলতেছে। আমার ছেলের নামে যাত্রাবাড়ী থানায় মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে এই সুলায়মানের মাধ্যমে। তখন আমার ছেলে মাদারীপুরে র‌্যাবে কর্মরত ছিল। আমার ছেলের নামে কেন মিথ্যা মামলা দেওয়া হলো, আমিও এর সঠিক বিচার চাই।”

এই ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতার সংবাদ সম্মেলনে হামলা: নারীসহ আহত ৪

আপডেট সময় : ১২:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

ফরিদপুর জেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন নিজের বাড়ির প্রবেশপথ আটকে বেড়া দেওয়ার অভিযোগ জানাতে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার (২৩ জুন, ২০২৫) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এই হামলায় তার পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পিঞ্জিরা বেগম (৪০) কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন, যার পৈত্রিক বাড়ি ও নানা বাড়ি পাশাপাশি অবস্থিত, বর্তমানে নানা বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। সম্প্রতি তার নানা বাড়ির প্রবেশপথে জোরপূর্বক বেড়া নির্মাণের জন্য খুঁটি গেড়েছে প্রতিপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলন ও হামলার বিবরণ

সংবাদ সম্মেলনে আনা ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, “আওয়ামী লীগের দোসর, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী পুলিশ এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জোরপূর্বক এতিমদের ভূমি দখল করে বিএনপি নেতার প্রতি মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করে সমাজে নানা প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।”

যখন অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন লিখিত বক্তব্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ আলতাফ হোসেন (৭০) সহ কয়েকজন এসে বাঁধা দেন। এ সময় একজন ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আলতাফ হোসেন ও তার লোকজন সুলায়মান হোসাইনের পরিবারের সকলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। প্রতিপক্ষের মারধরে তার খালা পিঞ্জিরা বেগম গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যাডভোকেট সুলায়মান হোসাইন নিজেও মাটিতে ফেলে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

এতিমদের ভূমি দখল ও বিচার দাবি

হামলার পর সংবাদ সম্মেলনে সুলায়মান হোসাইন জানান, তার বয়স যখন ৭ বছর এবং বোনের বয়স ৭ মাস, তখন তাদের বাবা মারা যান। এতিম হয়ে পড়লে তারা দুই ভাইবোন নানার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ওই সময়ে তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেন তার বড় ভাই আলতাফ হোসেন। তারা বড় হওয়ার পরে জমি উদ্ধারে কাজ করতে গেলে আলতাফ হোসাইন ও তার ছেলে পুলিশের এএসআই ইউসুফ হোসেন নূর অত্যাচার ও হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

সুলায়মান হোসাইন তার নানা বাড়ির প্রবেশপথে জোরপূর্বক বেড়া নির্মাণের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে এর সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

পাল্টা অভিযোগ প্রতিপক্ষের: ‘মিথ্যা মামলা ও হয়রানি’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই ইউসুফ হোসেন নূরের পিতা আলতাফ হোসেন সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ওর (সুলায়মানের) বাবার পারিবারিক ঝামেলার সময় বাড়ির জমি আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে আমার সম্পত্তিতে বেড়া দিয়েছি। কয়েকবার মাপঝোঁপ করেও দেখা হয়েছে।”

তিনি আরও পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৭ বছর যাবৎ আমরা বিএনপির নির্যাতিত পরিবার। বিভিন্ন সময় জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এই সুলায়মান আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে মিশে আমাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়েছে।” আলতাফ হোসেন দাবি করেন, “আজ আমার ছেলেকে সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের দোসর বলতেছে। আমার ছেলের নামে যাত্রাবাড়ী থানায় মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে এই সুলায়মানের মাধ্যমে। তখন আমার ছেলে মাদারীপুরে র‌্যাবে কর্মরত ছিল। আমার ছেলের নামে কেন মিথ্যা মামলা দেওয়া হলো, আমিও এর সঠিক বিচার চাই।”

এই ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।