চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ সদস্যকে গণধোলাই
- আপডেট সময় : ০২:২৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
- / 370
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে রুহুল আমিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) শাজাহানপুরের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে রুহুল আমিন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পুলিশী হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার বিস্তারিত
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শাপলা খাতুন শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার এজাহার অনুযায়ী, রুহুল আমিন, যিনি পূর্বে শাজাহানপুর থানায় কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বডিগার্ড হিসেবে কাজ করেছেন এবং সম্প্রতি বগুড়া সারিয়াকান্দী থানার চন্দনবাইসা পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি হয়েছেন, কিছুদিন আগে ডিবি পরিচয়ে শাপলার বাবা মো. আব্দুল বাকি শাহের (৬০) বাড়িতে তাকে আটক করার জন্য যান। বাবাকে না পেয়ে তিনি ৫০০ টাকা নিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে রুহুল আমিন আবারও তাদের শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর শাহ্ পাড়া গ্রামে এসে শাপলার ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ হোসেন সবুজের (৩২) খোঁজ করেন। সবুজ আসার পর রুহুল আমিন তাকে জানান যে, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছে তাদের বাড়ির কোণায় কিছু আছে এবং সবুজ যেন তার সাথে গিয়ে সেটা উদ্ধার করে।
রুহুলের কথামতো সবুজ তার বাড়ির দক্ষিণ পাশের কলা বাগানের কোণায় গিয়ে একটি ছোট টিনের কৌটা পান। রুহুল আমিন সবুজকে কৌটাটি তুলতে বললে সবুজ কৌটা খুলে ভেতরে ২০ রাউন্ড বুলেট (কার্তুজ) দেখতে পান। এরপর রুহুল আমিন এই বুলেটগুলোকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে ‘মিসিং বুলেট’ আখ্যা দিয়ে সবুজকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। একই সাথে তিনি সবুজকে ভয় দেখিয়ে বলেন, তার সাথে আরও ৮-৯ জন সিভিল পোশাকের পুলিশ সদস্য আছে এবং টাকা দিলে তাদের ম্যানেজ করা যাবে।
ভুক্তভোগীর প্রতিবাদ ও জনতার হস্তক্ষেপ
ঘটনাটি সবুজ তার বোন শাপলাকে জানালে তিনি এবং তার স্বামী মো. শাহাদত আলম (৪৩) দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুহুল আমিন অভিযোগকারীর মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেন।
একপর্যায়ে ঘটনাটি স্থানীয়রা জানতে পেরে রুহুল আমিনকে আটক করে এবং তাকে মারধর করে। অভিযোগকারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানালে তারা এসে রুহুল আমিনকে নিজ হেফাজতে নেয়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বর্তমান শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “চাঁদাবাজির অভিযোগে রুহুল আমিন নামে একজন কনস্টেবলকে আটক করেছিল স্থানীয়রা। তাকে প্রচুর মারধর করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে রুহুল আমিনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
রুহুল আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার কয়রা শরতলীর বাসিন্দা। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।





















