গেজেটভুক্ত না হওয়ায় গুলিবিদ্ধ সাদিকের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কা, মিলছে না সহায়তা
- আপডেট সময় : ০১:০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / 244
বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাদিক সাদমান সিদ্দিক (৩৪)। তার শরীরে দুটি গুলিবিদ্ধ হলেও, সরকারি গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি, যা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদিক সাদমান সিদ্দিক বগুড়া শহরের রহমানগর এলাকার জিল্লুর রহমান শামীমের ছেলে। গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর প্রথম থেকেই তিনি প্রতিদিনের সভা-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। গত বছরের ১৮ জুলাই শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিনি নয়টি গুলিবিদ্ধ হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিবার তাকে শহরের শেরপুর সড়কের অন্বেষা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করতে বাধ্য হয়। ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করে তার শরীর থেকে সাতটি গুলি বের করা হলেও, দুটি জটিল স্থানে থাকায় সেগুলো বের করা সম্ভব হয়নি।
উন্নত চিকিৎসার অভাব ও সরকারি গেজেটভুক্তির দাবি
চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে সাদিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, শরীর থেকে অবশিষ্ট দুটি গুলি বের করতে হলে তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে, যার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সাদিক সরকারি গেজেটভুক্ত না হওয়ায় কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না এবং উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। এ ব্যাপারে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বগুড়ার সিভিল সার্জনের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।
কলেজছাত্র সাদিক সাদমান সিদ্দিক বলেন, “দেশের ছাত্র-জনতা যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেমেছিল তখন নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হই। অথচ আজ সরকারিভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “শরীরে গুলিগুলো বয়ে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।”
সাদিকের বাবা জিল্লুর রহমান শামীম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলে আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলো। অথচ কেউ খবরও নিল না।” তিনি তার ছেলেকে অবিলম্বে সরকারি গেজেটভুক্ত করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য
বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের হেলথ কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আবেদন পেলে সাদিক কেন গেজেটভুক্ত হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।





















