জামায়াতের কাছে দল বিক্রি: ফরিদপুরে এনসিপি ছাড়লেন নীলিমা দোলা
- আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 1000
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ভাঙনের সুর আরও তীব্র হলো। এবার দলটির ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচিত মুখ সৈয়দা নীলিমা দোলা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি দলটির সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান।
জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ও আদর্শিক বিরোধ:
সৈয়দা নীলিমা দোলা তার পদত্যাগপত্রে দলটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি এখন আর মধ্যপন্থী দল নেই, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ধারায় মিশে গেছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোটকে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দোলার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে এই দলটির বর্তমান নেতৃত্ব ‘ধর্মীয় মোড়কে’ বন্দি করার চেষ্টা করছে।
তারুণ্যনির্ভর দলের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন:
পদত্যাগপত্রে নীলিমা দোলা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষ, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে এই তথাকথিত ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলটিকে দিনের পর দিন ভাবতে হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের জনতার কাছে এনসিপির অনেক দায় ছিল, যা গত কয়েক মাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে।”
ব্যক্তিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান:
ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে নীলিমা দোলা নিজেকে একজন প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে দাবি করেন। তিনি জানান, দলে যারা সত্য কথা বলছেন বা প্রতিবাদ করছেন, তাদের ‘বামপন্থী’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করা হচ্ছে যাতে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ হয়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান কোনো ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না, কিন্তু এনসিপি এখন সেই পথেই হাঁটছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পর থেকে এনসিপির ভেতরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে ডা. তাসনিম জারার মতো জ্যেষ্ঠ নেতারাও দল ছেড়ে স্বতন্ত্র পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন। নীলিমা দোলার এই পদত্যাগ এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





















