ধানের শীষে একটি ভোট, অতঃপর রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 775
সামনেই ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যখন সারাদেশে ভোটের প্রস্তুতি চলছে, তখন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পারুল আক্তারের মনে বাসা বেঁধেছে চরম আতঙ্ক। কারণ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেবল নিজের পছন্দের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে একটি ভোট দেওয়ার অপরাধে তাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, তা আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।
সেই নারকীয় রাতের বর্ণনা:
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। দিনের বেলা ভোটকেন্দ্রে সবার সামনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন চার সন্তানের জননী পারুল আক্তার। কিন্তু সেই রাতেই তার বাড়িতে নেমে আসে পৈশাচিক অন্ধকার। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার ঘরে ঢুকে সন্তানদের সামনেই তাকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সেই ভয়াবহ রাত পারুলের জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
৭ বছর পর এখনো কাটেনি বিভীষিকা:
ঘটনার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও পারুল আক্তার আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সেই রাতের অমানুষিক নির্যাতনের ক্ষত আজও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন। “সারা শরীরে এখনো প্রচণ্ড ব্যথা। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারিনি। অনেক সময় বিছানা থেকেও উঠতে পারি না।”
সামাজিক অবহেলা ও বর্তমান অবস্থা:
শুধুমাত্র শারীরিক যন্ত্রণাই নয়, সামাজিক অবহেলা আর চরম অর্থনৈতিক সংকট এখন তার নিত্যসঙ্গী। ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যে অমানবিকতার শিকার তিনি হয়েছিলেন, সেই ট্রমা তাকে এতটাই গ্রাস করেছে যে, এখনো রাতে ভয়ে হাত-পা কাপড় দিয়ে বেঁধে শুয়ে থাকেন তিনি।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পারুলের মতো অনেক ভোটারের মনেই এখন প্রশ্ন—নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া কি তবে এখনো এতোটা বিপজ্জনক?





















