ফরিদপুর: প্রাইভেট না পড়ানোর ফল? ছাত্রের মাকে মারধর
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / 617
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামীমা নাসরিন-এর বিরুদ্ধে এক ছাত্রের মাকে মারধর ও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং অনেক শিশু স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি অবহেলা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের সূত্রপাত ও ঘটনার বিবরণ
ছাত্রকে প্রহার: অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল সিয়ামকে শিক্ষিকা শামীমা অযথা বেধড়ক মারধর করেন এবং সকল ছাত্র-ছাত্রীর সামনে অপমানজনক ভাষায় তিরস্কার করেন।
প্রধান শিক্ষকের সামনে উত্তেজনা: পরের দিন সিয়ামের মা রিতু খানম প্রধান শিক্ষক মফিদুল ইসলাম-এর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে শিক্ষিকা শামীমা প্রধান শিক্ষকের সামনেই রিতু খানমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। প্রধান শিক্ষক থামাতে গেলে শিক্ষিকা বেত ছুড়ে মারেন।
বাড়িতে গিয়ে হামলা: রিতু খানম অভিযোগ করেন, পূর্বে প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকা ক্ষুব্ধ ছিলেন। অভিযোগ করার পর শামীমা নাসরিন তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁর ওপর হাত তুলেছেন এবং তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ও প্রশাসনিক জটিলতা
প্রধান শিক্ষক মফিদুল ইসলাম বলেন, “আমি শামীমাকে ডাকলে সে আমার সামনেই রিতু খানমকে গালাগাল করে এবং বেত ছুড়ে মারেন। এখন সিয়ামসহ অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না। তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গেও অপমান ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে।”
শিক্ষকের এমন আচরণে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “শিক্ষক যদি ভয় দেখান, তাহলে আমাদের সন্তানরা কোথায় নিরাপদে পড়াশোনা করবে?”
রাজনৈতিক প্রভাব: অভিযোগ উঠেছে যে, শিক্ষিকা শামীমা নাসরিন স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় এবং কিছু বিএনপি নেতার আশ্রয়ে থাকার কারণে শিক্ষা প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অবহেলা করছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত শিক্ষিকার অস্বীকার: শামীমা নাসরিন নিজেকে ‘উপজেলায় শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষিকা’ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো ছাত্র বা অভিভাবককে মারধর করিনি। বরং আমি যখন তাদের বাড়িতে যাই, উল্টো রিতু আমাকে মারধর করেছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে শালিশ বৈঠক বসানো ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর চাওয়ার বিষয়ে আমি জানতাম না।”
জেলা শিক্ষা অফিসার: ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন বলেন, “আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেছে—তিনি সঠিকভাবে বিচার করবেন। আর যদি তা না করেন, আমার কাছে অভিযোগ দিলে আমি বাহিরের উপজেলা শিক্ষা অফিসার দিয়ে তদন্ত করব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আছেন। তিনি ফিরে এসে অভিযোগ দেখে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।





















