ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সরকারে বিএনপি-জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের ভাগ বাটোয়ারা ঘোষণা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
  • / 681

রবিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত হয় “বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত আগামীর ‘জাতীয় সরকার’ এর রূপরেখা” বিষয়ক নাগরিক মতবিনিময় সভা। সভার আয়োজন করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদ। সভায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি অন্তর্বর্তী জাতীয় সরকারের প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক মো. নাজিমুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন টাইমস ইউনিভার্সিটির বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. মো. জয়নুল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএফ ফরমানুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলমগীর অপূর্ব এবং কাজী আমিনুল করিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. সালাহ উদ্দিন কবির।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর নামসহ প্রস্তাবিত কাঠামো প্রকাশ

সভায় জাতীয় সরকারের প্রস্তাবিত রূপরেখা উপস্থাপন করে মো. নাজিমুল হক জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রপতি হবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপ-রাষ্ট্রপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পদেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে আনুপাতিকভাবে বিএনপি ২৫ শতাংশ, জামায়াত ২০ শতাংশ, এনসিপি ১৫ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন ৫ শতাংশ, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে ২৫ শতাংশ প্রতিনিধি জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবেন।

বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

নাজিমুল হক বলেন, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর অপরিসীম ক্ষমতাকে রোধ করে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এটি হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ‘জাতীয় সনদ’, যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গণকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

বক্তারা বলেন, একটি জাতীয় সরকারের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে একত্রিত ও সমন্বিত প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং শাসনতান্ত্রিক কাঠামো গঠিত হবে। এতে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

তারা আরও বলেন, শাসক কখনো শোষক হবে না—বরং জনগণের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে জনকল্যাণ নিশ্চিত করবে। এজন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সরকারের ওপর সর্বসম্মত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন বক্তারা।

সারাংশ:
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই প্রস্তাবে বিকেন্দ্রীকৃত ক্ষমতার কাঠামো ও জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে গণকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

জাতীয় সরকারে বিএনপি-জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের ভাগ বাটোয়ারা ঘোষণা

আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

রবিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত হয় “বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত আগামীর ‘জাতীয় সরকার’ এর রূপরেখা” বিষয়ক নাগরিক মতবিনিময় সভা। সভার আয়োজন করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদ। সভায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি অন্তর্বর্তী জাতীয় সরকারের প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক মো. নাজিমুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন টাইমস ইউনিভার্সিটির বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. মো. জয়নুল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএফ ফরমানুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলমগীর অপূর্ব এবং কাজী আমিনুল করিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. সালাহ উদ্দিন কবির।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর নামসহ প্রস্তাবিত কাঠামো প্রকাশ

সভায় জাতীয় সরকারের প্রস্তাবিত রূপরেখা উপস্থাপন করে মো. নাজিমুল হক জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রপতি হবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপ-রাষ্ট্রপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পদেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে আনুপাতিকভাবে বিএনপি ২৫ শতাংশ, জামায়াত ২০ শতাংশ, এনসিপি ১৫ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন ৫ শতাংশ, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে ২৫ শতাংশ প্রতিনিধি জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবেন।

বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

নাজিমুল হক বলেন, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর অপরিসীম ক্ষমতাকে রোধ করে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এটি হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ‘জাতীয় সনদ’, যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গণকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

বক্তারা বলেন, একটি জাতীয় সরকারের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে একত্রিত ও সমন্বিত প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং শাসনতান্ত্রিক কাঠামো গঠিত হবে। এতে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

তারা আরও বলেন, শাসক কখনো শোষক হবে না—বরং জনগণের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে জনকল্যাণ নিশ্চিত করবে। এজন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সরকারের ওপর সর্বসম্মত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন বক্তারা।

সারাংশ:
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই প্রস্তাবে বিকেন্দ্রীকৃত ক্ষমতার কাঠামো ও জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে গণকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।