ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জ: নতুন সূর্যোদয় নাকি অনিশ্চিত গন্তব্য?

লামিমা লাম:
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 562

আজ ১ জানুয়ারি ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় নতুন বছরের শুরু। তবে এই নতুন বছরটি অন্যান্য বছরের চেয়ে একেবারেই আলাদা। কারণ, সামনেই কড়া নাড়ছে দেশের ভাগ্য নির্ধারণী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু আর মাত্র ১ মাস ১১ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সেই নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট।

নির্বাচন নিয়ে সংশয় ও বাস্তবতা:

তফসিল ঘোষণা এবং প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরেও অনেক সংশয়বাদী প্রশ্ন তুলছেন—নির্বাচন কি শেষমেশ হবে? তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ১৬ মাসের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন না হওয়ার মতো কোনো বড় কারণ চোখে পড়ে না। স্বৈরাচারী শক্তির দোসররা বাইরে থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। একমাত্র ‘শহীদ হাদি’র হত্যাকাণ্ড ছাড়া বড় কোনো অঘটন এখনও ঘটেনি।

ভোটের নতুন সমীকরণ: বিএনপি বনাম জামায়াত?

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে কৌতূহল উদ্দীপক দিক হলো রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন। অতীতে যেখানে সব দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাট্টা ছিল, সেখানে এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিভিন্ন জরিপে বিএনপিকে ১ নম্বরে এবং জামায়াতকে ২ নম্বরে রাখা হলেও, তরুণদের দল ‘এনসিপি’ তৃতীয় শক্তি হিসেবে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জনমনে আগ্রহ তুঙ্গে। বিশেষ করে তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে যেভাবে দেখা হচ্ছে, তা নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি:

নতুন যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতি। এছাড়া ভারতের ‘করদরাজ্য’ থেকে বের হয়ে আসার যে প্রক্রিয়া ড. ইউনূস শুরু করেছেন, সেটি কতটুকু বজায় থাকবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চীনকে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যুক্ত করা কিংবা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে সাহসী পথে অন্তর্বর্তী সরকার হেঁটেছে, নতুন সরকার সেই ধারা বজায় রাখবে কি না, তা ২০২৬ সাল জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

পাশাপাশি বিডিআর ম্যাসাকার ও শাপলা চত্বরের বিচারের দাবিগুলোও নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় বাঁক।

২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জ: নতুন সূর্যোদয় নাকি অনিশ্চিত গন্তব্য?

আপডেট সময় : ১২:২৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

আজ ১ জানুয়ারি ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় নতুন বছরের শুরু। তবে এই নতুন বছরটি অন্যান্য বছরের চেয়ে একেবারেই আলাদা। কারণ, সামনেই কড়া নাড়ছে দেশের ভাগ্য নির্ধারণী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু আর মাত্র ১ মাস ১১ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সেই নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট।

নির্বাচন নিয়ে সংশয় ও বাস্তবতা:

তফসিল ঘোষণা এবং প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরেও অনেক সংশয়বাদী প্রশ্ন তুলছেন—নির্বাচন কি শেষমেশ হবে? তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ১৬ মাসের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন না হওয়ার মতো কোনো বড় কারণ চোখে পড়ে না। স্বৈরাচারী শক্তির দোসররা বাইরে থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। একমাত্র ‘শহীদ হাদি’র হত্যাকাণ্ড ছাড়া বড় কোনো অঘটন এখনও ঘটেনি।

ভোটের নতুন সমীকরণ: বিএনপি বনাম জামায়াত?

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে কৌতূহল উদ্দীপক দিক হলো রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন। অতীতে যেখানে সব দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাট্টা ছিল, সেখানে এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিভিন্ন জরিপে বিএনপিকে ১ নম্বরে এবং জামায়াতকে ২ নম্বরে রাখা হলেও, তরুণদের দল ‘এনসিপি’ তৃতীয় শক্তি হিসেবে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জনমনে আগ্রহ তুঙ্গে। বিশেষ করে তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে যেভাবে দেখা হচ্ছে, তা নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি:

নতুন যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতি। এছাড়া ভারতের ‘করদরাজ্য’ থেকে বের হয়ে আসার যে প্রক্রিয়া ড. ইউনূস শুরু করেছেন, সেটি কতটুকু বজায় থাকবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চীনকে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যুক্ত করা কিংবা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে সাহসী পথে অন্তর্বর্তী সরকার হেঁটেছে, নতুন সরকার সেই ধারা বজায় রাখবে কি না, তা ২০২৬ সাল জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

পাশাপাশি বিডিআর ম্যাসাকার ও শাপলা চত্বরের বিচারের দাবিগুলোও নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় বাঁক।