এমপি গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 142
জলঘোলা হচ্ছিল গত কয়েকদিন ধরেই, কিন্তু পরিণতি যে এত দ্রুত এবং এতটা নির্মম হবে, তা হয়তো খোদ সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভাবেননি। সিসিটিভি ফুটেজ আর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই নেমে এল দলীয় কোপ। নৈতিক স্খলনের অকাট্য প্রমাণ মেলায় প্রবীণ এই শীর্ষ নেতাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে এই নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি-র সভাপতিত্বে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মিন্টো রোডের রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং এহসানুল মাহবুবের সই করা ‘শাহী ফরমান’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই জরুরি বৈঠকের পর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমপি নজরুলের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের খবরটি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আর তার জেরেই দলের গঠনতন্ত্রের কড়া ধারা প্রয়োগ করে তাঁকে দল থেকে আজীবনের জন্য ছুঁড়ে ফেলা হলো।
তবে নাটকের এখানেই শেষ নয়; জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই সংসদ সদস্যের পদ থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে আইনি মহলে নতুন অঙ্কের জন্ম হলো।
‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র তত্ত্ব ও ব্ল্যাকমেইলের তত্ত্ব ধোপে টিকল না আলিমুদ্দিনের ধাঁচে!
এর আগে সোমবার রাতে ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এমপি গাজী নজরুল এবং সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত সম্মিলিতভাবে দাবি করেছিল যে, ভিডিওর ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং মগবাজারে শ্বশুরের অফিসে তাঁকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মুনামিও এই ইস্যুতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কঠোর তদন্ত কমিটির কাছে এমপি সাহেবের এই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ ও ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর তত্ত্ব যে বিন্দুমাত্র ধোপে টেকেনি, বুধাবারের এই ঝোড়ো বহিষ্কারের সিদ্ধান্তই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

























