মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসা রাহুল-অখিলেশদের টানতে টানতে আটক
- আপডেট সময় : ১০:৩১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 74
বাদল অধিবেশনের পয়লা দিনেই দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় পৌঁছে গেল ফুটন্ত বিন্দুতে। একদিকে সংসদ চত্বর, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গের হাই-সিকিউরিটি জোন—মঙ্গলবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দেশের রাজধানী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কড়া নিষেধাজ্ঞা আর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অদূরে রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পাশে নিয়ে যখন মোদী সরকারের ভিত কাঁপানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত, ঠিক তখনই আসরে নামল দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাহুল-অখিলেশদের কার্যত চ্যাংদোলা করে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ বাহিনী।
মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার প্রতিবাদে শামিল ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের ‘নৃশংস’ হামলার প্রতিবাদে এই মহাধর্নার ডাক দিয়েছিল বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোট।
“শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে ভারতের ওপর হামলা!” এক্স হ্যান্ডেলে রাহুলের হুঙ্কার
মঙ্গলবারের এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিবাদের সুর সকালেই বেঁধে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসার ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিনি। রাহুল লেখেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি মনে করেন যে তিনি কোনো জবাব না দিয়েই, কোনো পরিণতির মুখোমুখি না হয়েই পার পেয়ে যাবেন—পারবেন না, এবার তো একেবারেই না। আমি প্রতিটি দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে আবেদন জানাই—যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যায় না।”
রাহুলের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ধর্নামঞ্চে হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেস শাসিত দুই রাজ্যের হেভিওয়েট মুখ—কেরালার ভিডি সতীশন এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। পাওয়ার পলিটিক্সের উত্তাপ বাড়িয়ে যোগ দেন শরদ পাওয়ারের কন্যা তথা এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও।
শাহের ‘দূতের’ দৌড়ঝাঁপ, চার দাবিতে অনড় বিরোধী শিবির
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিকেলে আসরে নামেন খোদ মোদীর দূত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ ও স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন। অমিত শাহের ‘আবেদন’ নিয়ে তাঁরা ধর্নাস্থলে গিয়ে রাহুলদের ল্যাম্পপোস্টের নিচে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। কিন্তু বরফ গলেনি।
সূত্রের খবর, মোদী সরকারকে কোণঠাসা করতে ৪টি অকাট্য দাবিতে অনড় ছিল বিরোধী শিবির: ১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক ইস্তফা। ২. শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা। ৩. সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি। ৪. নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে বাদল অধিবেশনে বিশদ আলোচনা।
যদিও সরকারের দাবি, নিট বিতর্ক নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রাথমিক শর্ত তারা মেনে নিয়েছিল, কিন্তু রাহুল গান্ধী নতুন করে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার শর্ত জুড়ে দেওয়ায় আলোচনা ভেস্তে যায়। মূলত, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে সোমবারের সংসদ অভিযান এবং ধর্নাস্থলে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশনের জেরে মোদী-শাহের ওপর যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছিল, রাহুল-অখিলেশের গ্রেফতারি তাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

























