ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্র্যান্ডের মোড়কে বিষ! কাজী ফুডস ও ফ্রেশসহ ৪ প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য নিষিদ্ধ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 175

নামীদামী চকচকে মোড়ক, বিজ্ঞাপনের চোখ ধাঁধানো আলো আর আকাশচুম্বী ব্র্যান্ডের ভরসা—কিন্তু ভেতরে যা লুকিয়ে আছে, তা আসলে মানবদেহের জন্য নীরব ঘাতক! আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য ও প্রসাধন সামগ্রীর এই অন্ধকার দিকটি আবারও উন্মোচন করল পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের ৪টি নামী প্রতিষ্ঠানের ৮টি বহুল প্রচলিত পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। ল্যাব পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া) এবং নির্ধারিত মানের চরম ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্ফোরক তথ্য জানানো হয়েছে।

ফ্রেশের আচার থেকে কাজী ফুডসের চকলেট আইসক্রিম—তালিকায় কারা?

বিএসটিআইর ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা যেকোনো সচেতন ভোক্তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া পণ্যগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস: এই প্রতিষ্ঠানের ‘আমের আচার’-এ পাওয়া গেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ।

কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ: উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পছন্দের ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিম’-এ টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট বাংলাদেশ মানমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে পাওয়া গেছে।

অলিভ বাংলাদেশ: এই প্রসাধন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ (মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক) এবং অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মিলেছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর অণুজীব বা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া।

ডেকো ফুডস: শিশুদের অত্যন্ত প্রিয় ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানমাত্রার চেয়ে ভিটামিন ‘সি’ অনেক কম পাওয়া গেছে, যা এক প্রকার প্রতারণা।

উৎপাদন ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই জেল-জরিমানা

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এই পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যেই আইনি ‘প্রত্যাখ্যান পত্র’ (রিজেকশন লেটার) দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নতুন করে নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন, বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিএসটিআই নির্দেশ দিয়েছে যে, দেশের সব ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে এই ৮টি পণ্য যেন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, “মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। ক্রেতাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও মেয়াদের তারিখ দেখে নেওয়া উচিত।” তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, এই নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্র্যান্ডের মোড়কে বিষ! কাজী ফুডস ও ফ্রেশসহ ৪ প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য নিষিদ্ধ

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নামীদামী চকচকে মোড়ক, বিজ্ঞাপনের চোখ ধাঁধানো আলো আর আকাশচুম্বী ব্র্যান্ডের ভরসা—কিন্তু ভেতরে যা লুকিয়ে আছে, তা আসলে মানবদেহের জন্য নীরব ঘাতক! আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য ও প্রসাধন সামগ্রীর এই অন্ধকার দিকটি আবারও উন্মোচন করল পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের ৪টি নামী প্রতিষ্ঠানের ৮টি বহুল প্রচলিত পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। ল্যাব পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া) এবং নির্ধারিত মানের চরম ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্ফোরক তথ্য জানানো হয়েছে।

ফ্রেশের আচার থেকে কাজী ফুডসের চকলেট আইসক্রিম—তালিকায় কারা?

বিএসটিআইর ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা যেকোনো সচেতন ভোক্তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া পণ্যগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস: এই প্রতিষ্ঠানের ‘আমের আচার’-এ পাওয়া গেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ।

কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ: উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পছন্দের ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিম’-এ টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট বাংলাদেশ মানমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে পাওয়া গেছে।

অলিভ বাংলাদেশ: এই প্রসাধন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ (মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক) এবং অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মিলেছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর অণুজীব বা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া।

ডেকো ফুডস: শিশুদের অত্যন্ত প্রিয় ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানমাত্রার চেয়ে ভিটামিন ‘সি’ অনেক কম পাওয়া গেছে, যা এক প্রকার প্রতারণা।

উৎপাদন ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই জেল-জরিমানা

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এই পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যেই আইনি ‘প্রত্যাখ্যান পত্র’ (রিজেকশন লেটার) দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নতুন করে নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন, বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিএসটিআই নির্দেশ দিয়েছে যে, দেশের সব ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে এই ৮টি পণ্য যেন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, “মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। ক্রেতাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও মেয়াদের তারিখ দেখে নেওয়া উচিত।” তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, এই নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।