বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 73
খেলার মাঠের সবুজ ঘাস ছাপিয়ে যখন ডলারের সবুজ কাগজের বান্ডিল আকাশচুম্বী হতে থাকে, তখন খেলার মহিমা আড়ালে গিয়ে পুঁজিবাদের জয়জয়কার শুরু হয়। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফাকে কুবেরের ধন এনে দেবে, তার পূর্বাভাস আগেই ছিল। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। সদস্য দেশগুলোকে দেওয়া ফিফার গোপন নথির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, এবারের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পকেটে পুরেছে ফিফা!
বাঙালিকে যদি এই অঙ্কের হিসাব সহজে বোঝাতে হয়, তবে বলতে হবে এক বিশ্বকাপ থেকেই ফিফা বাংলাদেশি মুদ্রায় আয় করেছে প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা! যা বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের পুরো এক অর্থবছরের মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) তিন ভাগের দুই ভাগের সমান।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল টিকিট কালোবাজারির ‘কমিশন’!
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বুক বেঁধেছিলেন ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয়ের। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগেই সেই লক্ষ্যমাত্রাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত ৪০০ কোটি ডলার বেশি আয় করে ফেলেছে সংস্থাটি।
কিন্তু এত টাকা এল কোথা থেকে? নেপথ্যে রয়েছে ফিফার এক চতুর ব্যবসায়িক চাল। সাধারণ দর্শকরা যখন টিকিটের জন্য হাহাকার করছেন, তখন আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ও উচ্চমূল্যের সেকেন্ডারি টিকিটের বাজারকে উন্মুক্ত করে দেয় ফিফা। ব্ল্যাকে বা সেকেন্ডারি বাজারে টিকিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতা এবং বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে চড়া কমিশন কেটেছে ফিফা। নিউ জার্সিতে স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার মেগা ফাইনালের আগের সন্ধ্যাতেও ফিফার নিজস্ব পোর্টালে ভিআইপি ‘ট্রফি লাউঞ্জ’ প্যাকেজের একটি মাত্র টিকিটের দাম ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার! টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দামই ফিফার কোষাগারকে গ্লোবাল ব্যাংকে পরিণত করেছে।
ট্রাম্পের চাপ, লাল কার্ডের নাটক ও ইনফান্তিনোর রাজদণ্ড
এই বিপুল আর্থিক সাফল্য কেবল ফিফার ব্যাংক ব্যালেন্সই বাড়ায়নি, বরং সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নড়বড়ে হয়ে যাওয়া সিংহাসনকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে মাঠের বাইরে বিতর্কের অন্ত ছিল না। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের নজিরবিহীন ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। অভিযোগ উঠেছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের কাছে মাথা নত করেছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। ইউরোপের পরাশক্তিগুলো এই নিয়ে ফুঁসছিল।
কিন্তু টাকার গরম সব ক্ষোভের মুখে ছাই চাপা দিয়ে দিয়েছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ইতিমধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশের প্রকাশ্য সমর্থন পকেটে পুরে ফেলেছেন। কারণ, এই অতিরিক্ত আয়ের একটা বড় অংশ বোনাস হিসেবে উড়ে যাবে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনে। টাকার এই হরিলুটের মুখে তাই ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় দেশগুলোও এখন মুখে কুলুপ আঁটতে বাধ্য হচ্ছে।
২০৩৮ সালে আবারও আমেরিকা? ট্রাম্পের খোলা ডাক
আমেরিকার মাটিতে এই বিপুল বাণিজ্যের পর হোয়াইট হাউসের অন্দরেও এখন ফুটবলের হাওয়া। এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফিফাকে প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, “আপনারা আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিন, তবে এবার কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ দিন।” ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ২০৩৮ সালে আবারও মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপ ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, পাশাপাশি ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়েও আমেরিকার সঙ্গে গভীর আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন ইনফান্তিনো।

























