ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে থাকা গাজার প্রবীণ নেতাকে হত্যা করল ইসরায়েল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 51

রক্তাক্ত গাজা উপত্যকায় যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে মৃত্যুর প্রহর গুনে, সেখানেও মানুষের বেঁচে থাকার, একটুখানি হাসার ফুসফুস হয়ে উঠেছিল ফুটবল। কিন্তু সেই ধুঁকতে থাকা আনন্দের বুকেও আছড়ে পড়ল ইসরায়েলি ড্রোন হামলা। মিশর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ এক ফুটবল ম্যাচ গাজার বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বড় পর্দায় দেখানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চিলড্রেন অব ওয়ারদের সেই উৎসবের কারিগরকেই চিরতরে স্তব্ধ করে দিল ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন মিশরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি।

প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার ও আরবি পোস্টের খবরে বলা হয়, গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াহিদির পাশাপাশি এক নিষ্পাপ শিশুসহ আরও দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শান্তির বৈঠক শেষে মৃত্যুর মুখোমুখি: চুরমার ফুটবল-স্বপ্ন

মিশরীয় ত্রাণ কমিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি কেবল ত্রাণ কমিটির জনসংযোগই সামলাতেন না, তিনি গাজা সিটি সদর দপ্তরে প্রবীণদের একটি সংস্থার কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন। সাবরা এলাকায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে ওয়াহিদির গাড়িতে যখন হামলা হয়, তার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তিনি এলাকার একটি সামাজিক বিরোধ মীমাংসা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

ত্রাণ বিতরণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ক্যাম্প পরিচালনা—সবখানেই অত্যন্ত সম্মানিত ও অক্লান্ত এক মুখ ছিলেন ওয়াহিদি। আর যুদ্ধক্লান্ত গাজাবাসীকে এক চিলতে বিনোদন দিতেই তিনি বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখানোর এই বিশেষ আয়োজন করেছিলেন, যা মুহূর্তের মধ্যে রক্তের স্রোতে ভেসে গেল।

যুদ্ধবিরতির টেবিলে কায়রোর কড়া থাপ্পড় ও ক্ষোভ

মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি যে কমিটির হয়ে কাজ করতেন, সেটি স্বয়ং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এই হামলা কেবল গাজার বুকে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ নয়, বরং সরাসরি মিশরের ওপর এক মস্ত বড় কূটনৈতিক আঘাত। কায়রোতে যখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই এই কমিটির ওপর হামলার ঘটনা ঘটল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিষয়ে কায়রো তীব্রতম প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তেল আবিবের কাছে এর জবাব চেয়েছে।

মিশরীয় ত্রাণ কমিটির মুখপাত্র গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন

যেকোনো বিরোধ মেটানো এবং মানুষের সেবা করার জন্য তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিত ও অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। আজ খেলার আনন্দ দেখানোর আগেই তাঁকে নির্মমভাবে বিদায় নিতে হলো।”

যুদ্ধবিরতির আড়ালে অন্তহীন মৃত্যুর মিছিল

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর গত আট মাসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন। ওয়াহিদির ওপর হামলার দিনই গাজাজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলায় মোট নিহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে।

মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে থাকা গাজার প্রবীণ নেতাকে হত্যা করল ইসরায়েল

আপডেট সময় : ১২:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

রক্তাক্ত গাজা উপত্যকায় যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে মৃত্যুর প্রহর গুনে, সেখানেও মানুষের বেঁচে থাকার, একটুখানি হাসার ফুসফুস হয়ে উঠেছিল ফুটবল। কিন্তু সেই ধুঁকতে থাকা আনন্দের বুকেও আছড়ে পড়ল ইসরায়েলি ড্রোন হামলা। মিশর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ এক ফুটবল ম্যাচ গাজার বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বড় পর্দায় দেখানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চিলড্রেন অব ওয়ারদের সেই উৎসবের কারিগরকেই চিরতরে স্তব্ধ করে দিল ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন মিশরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি।

প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার ও আরবি পোস্টের খবরে বলা হয়, গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াহিদির পাশাপাশি এক নিষ্পাপ শিশুসহ আরও দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শান্তির বৈঠক শেষে মৃত্যুর মুখোমুখি: চুরমার ফুটবল-স্বপ্ন

মিশরীয় ত্রাণ কমিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি কেবল ত্রাণ কমিটির জনসংযোগই সামলাতেন না, তিনি গাজা সিটি সদর দপ্তরে প্রবীণদের একটি সংস্থার কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন। সাবরা এলাকায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে ওয়াহিদির গাড়িতে যখন হামলা হয়, তার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তিনি এলাকার একটি সামাজিক বিরোধ মীমাংসা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

ত্রাণ বিতরণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ক্যাম্প পরিচালনা—সবখানেই অত্যন্ত সম্মানিত ও অক্লান্ত এক মুখ ছিলেন ওয়াহিদি। আর যুদ্ধক্লান্ত গাজাবাসীকে এক চিলতে বিনোদন দিতেই তিনি বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখানোর এই বিশেষ আয়োজন করেছিলেন, যা মুহূর্তের মধ্যে রক্তের স্রোতে ভেসে গেল।

যুদ্ধবিরতির টেবিলে কায়রোর কড়া থাপ্পড় ও ক্ষোভ

মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি যে কমিটির হয়ে কাজ করতেন, সেটি স্বয়ং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এই হামলা কেবল গাজার বুকে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ নয়, বরং সরাসরি মিশরের ওপর এক মস্ত বড় কূটনৈতিক আঘাত। কায়রোতে যখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই এই কমিটির ওপর হামলার ঘটনা ঘটল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিষয়ে কায়রো তীব্রতম প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তেল আবিবের কাছে এর জবাব চেয়েছে।

মিশরীয় ত্রাণ কমিটির মুখপাত্র গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন

যেকোনো বিরোধ মেটানো এবং মানুষের সেবা করার জন্য তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিত ও অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। আজ খেলার আনন্দ দেখানোর আগেই তাঁকে নির্মমভাবে বিদায় নিতে হলো।”

যুদ্ধবিরতির আড়ালে অন্তহীন মৃত্যুর মিছিল

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর গত আট মাসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন। ওয়াহিদির ওপর হামলার দিনই গাজাজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলায় মোট নিহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে।