ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত-এনসিপির জোট নির্বাচন বর্জন করছে!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1644

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। একের পর এক অভিযোগ আর অসন্তোষের জেরে রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন— শেষ পর্যন্ত কি নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটবে এই জোট?

বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে বর্জনের সম্ভাবনা:

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর রহমান মনে করেন, ১১ দলীয় জোটের নির্বাচন বর্জনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেলেও যেকোনো মুহূর্তে জোট সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে। তার মতে, জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে বর্তমান প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ‘বিএনপি ঘেঁষা’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের প্রকাশ্যেই বলেছেন, প্রশাসন যেন তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

চাপ তৈরির কৌশল না কি পলায়ন?

জাহেদ-উর রহমানের মতে, এই অভিযোগগুলোর পেছনে দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে নির্বাচন বর্জনের একটি শক্ত অজুহাত তৈরি করে রাখা। তিনি বলেন, “যদি ধারাবাহিকভাবে বলা হয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, তবে এক পর্যায়ে বলা সহজ হয় যে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই।”

অপ্রতিরোধ্য বিএনপি ও ‘সূর্যমুখী’ প্রশাসন:

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই নিশ্চিত বিজয়ের ধারণা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের একটি অংশকে ‘সূর্যমুখী প্রবণতা’র দিকে ঠেলে দিতে পারে— অর্থাৎ তারা আগেভাগেই ক্ষমতার সম্ভাব্য কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আসন ভাগাভাগির উদ্বেগ:

জামায়াত-এনসিপি জোটের বড় ভয় হলো প্রত্যাশার চেয়ে কম আসন পাওয়া। যদি তারা বুঝতে পারে যে কাঙ্ক্ষিত আসন আসছে না, তবে বিরোধী রাজনীতিতে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে ‘নির্বাচন বর্জন’ তাদের জন্য একটি দর কষাকষির অস্ত্র (Bargaining Tool) হতে পারে। তবে জাহেদ-উর রহমান সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচন বর্জন করলে দেশ এক অজানা বিপদের পথে চলে যেতে পারে, যা বর্জনকারী দলগুলোর জন্যও ভয়াবহ হতে পারে।

জামায়াত-এনসিপির জোট নির্বাচন বর্জন করছে!

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। একের পর এক অভিযোগ আর অসন্তোষের জেরে রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন— শেষ পর্যন্ত কি নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটবে এই জোট?

বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে বর্জনের সম্ভাবনা:

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর রহমান মনে করেন, ১১ দলীয় জোটের নির্বাচন বর্জনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেলেও যেকোনো মুহূর্তে জোট সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে। তার মতে, জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে বর্তমান প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ‘বিএনপি ঘেঁষা’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের প্রকাশ্যেই বলেছেন, প্রশাসন যেন তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

চাপ তৈরির কৌশল না কি পলায়ন?

জাহেদ-উর রহমানের মতে, এই অভিযোগগুলোর পেছনে দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে নির্বাচন বর্জনের একটি শক্ত অজুহাত তৈরি করে রাখা। তিনি বলেন, “যদি ধারাবাহিকভাবে বলা হয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, তবে এক পর্যায়ে বলা সহজ হয় যে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই।”

অপ্রতিরোধ্য বিএনপি ও ‘সূর্যমুখী’ প্রশাসন:

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই নিশ্চিত বিজয়ের ধারণা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের একটি অংশকে ‘সূর্যমুখী প্রবণতা’র দিকে ঠেলে দিতে পারে— অর্থাৎ তারা আগেভাগেই ক্ষমতার সম্ভাব্য কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আসন ভাগাভাগির উদ্বেগ:

জামায়াত-এনসিপি জোটের বড় ভয় হলো প্রত্যাশার চেয়ে কম আসন পাওয়া। যদি তারা বুঝতে পারে যে কাঙ্ক্ষিত আসন আসছে না, তবে বিরোধী রাজনীতিতে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে ‘নির্বাচন বর্জন’ তাদের জন্য একটি দর কষাকষির অস্ত্র (Bargaining Tool) হতে পারে। তবে জাহেদ-উর রহমান সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচন বর্জন করলে দেশ এক অজানা বিপদের পথে চলে যেতে পারে, যা বর্জনকারী দলগুলোর জন্যও ভয়াবহ হতে পারে।