শেখ হাসিনার ফোনালাপও গোপনে রেকর্ড করেছিল এনটিএমসি
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 431
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক গোপনে রেকর্ড করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ফোনালাপে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া শেখ হাসিনার নানা নির্দেশনার প্রমাণ মিলেছে বলে ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম. তাজুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
এনটিএমসি’র গোপন নজরদারি
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এনটিএমসি-ই জুলাই আন্দোলনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিক ফোনালাপ গোপনে রেকর্ড করেছিল।
উদ্ধার: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা এনটিএমসি থেকে শেখ হাসিনার সেই গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ডগুলো উদ্ধার করেছেন।
সাক্ষ্য: চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এনটিএমসিতে যারা সার্ভিল্যান্সের (নজরদারি) দায়িত্বে নিয়োজিত, তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাদের কনভারসেশন হয়েছে, তাদেরকে এই সার্ভিল্যান্সের আওতায় এনেছিলেন। রেকর্ড করা হয়েছিলো গোপনে।”
ফোনালাপে যা উঠে এসেছে
ফোনালাপগুলোতে সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এসএম মাসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন রয়েছে।
নির্দেশনা: কল রেকর্ডগুলোতে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শেখ হাসিনার দেওয়া নানা নির্দেশনা উঠে এসেছে।
বিশ্বাসযোগ্যতা: চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, যেহেতু এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রেকর্ড করা ফোনালাপ, সেহেতু এগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।
ফরেনসিক টেস্ট ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক টেস্টের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
সিআইডি রিপোর্ট: ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়, সিআইডি কর্তৃক করা টেস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কণ্ঠস্বরগুলো শেখ হাসিনা, ইনু, তাপস ও মাকসুদ কামালের। এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা বানানো নয়।
আন্তর্জাতিক প্রমাণ: এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসিও এসব ফোনালাপ নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে এবং তারা নিজস্ব এক্সপার্ট দিয়ে পরীক্ষা করে জানিয়েছে যে ফোনালাপগুলো এআই জেনারেটেড নয়।
আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার
চিফ প্রসিকিউটর যুক্তিতর্কে আন্দোলন দমনে অন্যান্য কৌশল ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন:
হেলিকপ্টার ব্যবহার: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করা ও দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব তথ্য: তদন্ত কর্মকর্তার চিঠির প্রেক্ষিতে র্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে যে, আন্দোলনের সময় ৩৬ বার ফ্লাই করেছিল হেলিকপ্টারগুলো।
উল্লেখ্য, এনটিএমসি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নাগরিকদের ফোনে আড়ি পাতা এবং গত দেড় দশকে বিরোধী মতাদর্শের রাজনীতিবিদদের হয়রানি করার অভিযোগ ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মে. জে (অব) জিয়াউল আহসান, যার বিরুদ্ধে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তিনিও বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
চিফ প্রসিকিউটরকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করবেন চিফ প্রসিকিউটর।
























