ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ৪

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 122

পরীক্ষা দিলেন অন্য কেউ, আর সেই যোগ্যতার জোরে সরকারি চাকরি পকেটে পুরে বুক ফুলিয়ে চেয়ারে বসতে এলেন আসল ব্যক্তি! কিন্তু বিধি বাম। সাধের সরকারি চাকরি আর রাজকীয় জীবনের স্বপ্ন যে এভাবে সচিবালয়ের চার দেওয়ালে এসে মুখ থুবড়ে পড়বে, তা হয়তো অতি চতুর এই চার জালিয়াতও ভাবেনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগ দিতে এসে মৌখিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় হাতেনাতে আটক হয়েছেন ৪ জন।

প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। ধৃতরা স্বীকার করেছেন, পরীক্ষায় পাস করতে তাঁরা নিজেরা নন, বরং মোটা অঙ্কের চুক্তিতে অন্য দক্ষ ব্যক্তিদের (প্রক্সি) দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় রাজধানী ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

টাঙ্গাইল থেকে কুড়িগ্রাম: জালিয়াতির এক সুতোয় গাঁথা ৪ জেলা

আটক হওয়া ওই ৪ ‘ভাগ্যবান’ অথচ চতুর প্রার্থী হলেন—টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।

মন্ত্রণালয়ের এজাহার সূত্রে জানা যায়, এই চারজনের মৌখিক পরীক্ষার সূচি ছিল জুনের শেষ সপ্তাহে। আ. আলিমের ভাইভা হয় ২৪ জুন, আলী হায়দার ও রাসেল রানার ২৫ জুন এবং মাসুদ ফকিরের পরীক্ষা নেওয়া হয় ২৮ জুন। পরীক্ষা স্বচ্ছ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর প্রবেশপত্রসহ ছবি তুলে ডিজিটাল আর্কাইভে রাখা হয়েছিল। আর এই দূরদর্শী পদক্ষেপই কাল হলো জালিয়াতি চক্রের।

২০ জনের তালিকায় নাম, ১৯ তারিখ সকালে স্বপ্নভঙ্গ!

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার বৈতরণী ‘প্রক্সি’র ঘাড়ে চড়ে পার হওয়ার পর গত ৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে একই দিনে নিয়োগপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগপত্রের নির্দেশ মেনে গতকাল ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় নির্বাচিত প্রার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন অধিশাখা) কাছে চূড়ান্ত যোগদানপত্র জমা দিতে আসেন।

যুগ্ম সচিবের টেবিলের সামনে যখন ওই ৪ জন দাঁড়ান, তখনই বাঁধে বিপত্তি। উপস্থিত কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়ে, মৌখিক পরীক্ষার সময় ক্যামেরায় ধারণ করা ছবির চেহারার সঙ্গে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রক্ত-মাংসের মানুষগুলোর চেহারার আকাশ-পাতাল তফাত! এরপরই শুরু হয় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ।

প্রথমে আমতা আমতা করলেও প্রশাসনের চাপের মুখে ভেঙে পড়ে চার জালিয়াত। তারা অকপটে স্বীকার করে, ভাইভা বোর্ডে যারা বসেছিল তারা আসলে অন্য মানুষ। অপরাধ স্বীকার করে তারা লিখিত বক্তব্য দিতে বাধ্য হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল মন্ত্রণালয়। যেখানে অফিস সহায়ক পদের জন্য আবেদন পড়েছিল ২৩ হাজার ৭০৯টি। লিখিত পরীক্ষায় ৯ হাজার ৩১৮ জন অংশ নেওয়ার পর মাত্র ১০৭ জনকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই কঠিন প্রতিযোগিতাকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিল এই চক্রটি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ৪

আপডেট সময় : ০১:০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষা দিলেন অন্য কেউ, আর সেই যোগ্যতার জোরে সরকারি চাকরি পকেটে পুরে বুক ফুলিয়ে চেয়ারে বসতে এলেন আসল ব্যক্তি! কিন্তু বিধি বাম। সাধের সরকারি চাকরি আর রাজকীয় জীবনের স্বপ্ন যে এভাবে সচিবালয়ের চার দেওয়ালে এসে মুখ থুবড়ে পড়বে, তা হয়তো অতি চতুর এই চার জালিয়াতও ভাবেনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগ দিতে এসে মৌখিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় হাতেনাতে আটক হয়েছেন ৪ জন।

প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। ধৃতরা স্বীকার করেছেন, পরীক্ষায় পাস করতে তাঁরা নিজেরা নন, বরং মোটা অঙ্কের চুক্তিতে অন্য দক্ষ ব্যক্তিদের (প্রক্সি) দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় রাজধানী ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

টাঙ্গাইল থেকে কুড়িগ্রাম: জালিয়াতির এক সুতোয় গাঁথা ৪ জেলা

আটক হওয়া ওই ৪ ‘ভাগ্যবান’ অথচ চতুর প্রার্থী হলেন—টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।

মন্ত্রণালয়ের এজাহার সূত্রে জানা যায়, এই চারজনের মৌখিক পরীক্ষার সূচি ছিল জুনের শেষ সপ্তাহে। আ. আলিমের ভাইভা হয় ২৪ জুন, আলী হায়দার ও রাসেল রানার ২৫ জুন এবং মাসুদ ফকিরের পরীক্ষা নেওয়া হয় ২৮ জুন। পরীক্ষা স্বচ্ছ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর প্রবেশপত্রসহ ছবি তুলে ডিজিটাল আর্কাইভে রাখা হয়েছিল। আর এই দূরদর্শী পদক্ষেপই কাল হলো জালিয়াতি চক্রের।

২০ জনের তালিকায় নাম, ১৯ তারিখ সকালে স্বপ্নভঙ্গ!

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার বৈতরণী ‘প্রক্সি’র ঘাড়ে চড়ে পার হওয়ার পর গত ৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে একই দিনে নিয়োগপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগপত্রের নির্দেশ মেনে গতকাল ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় নির্বাচিত প্রার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন অধিশাখা) কাছে চূড়ান্ত যোগদানপত্র জমা দিতে আসেন।

যুগ্ম সচিবের টেবিলের সামনে যখন ওই ৪ জন দাঁড়ান, তখনই বাঁধে বিপত্তি। উপস্থিত কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়ে, মৌখিক পরীক্ষার সময় ক্যামেরায় ধারণ করা ছবির চেহারার সঙ্গে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রক্ত-মাংসের মানুষগুলোর চেহারার আকাশ-পাতাল তফাত! এরপরই শুরু হয় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ।

প্রথমে আমতা আমতা করলেও প্রশাসনের চাপের মুখে ভেঙে পড়ে চার জালিয়াত। তারা অকপটে স্বীকার করে, ভাইভা বোর্ডে যারা বসেছিল তারা আসলে অন্য মানুষ। অপরাধ স্বীকার করে তারা লিখিত বক্তব্য দিতে বাধ্য হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল মন্ত্রণালয়। যেখানে অফিস সহায়ক পদের জন্য আবেদন পড়েছিল ২৩ হাজার ৭০৯টি। লিখিত পরীক্ষায় ৯ হাজার ৩১৮ জন অংশ নেওয়ার পর মাত্র ১০৭ জনকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই কঠিন প্রতিযোগিতাকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিল এই চক্রটি।