এনটিএমসিতে ভয়ংকর মিশন: মন্ত্রীদের ফোনালাপ ধ্বংসের নির্দেশ কার?
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
- / 254
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর, তাঁর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের রেকর্ড মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় জিয়াউল আহসান ঢাকায় বসে সেই কল রেকর্ডগুলো মুছে ফেলতে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আলোচিত এই কর্মকর্তা গুম, খুন, ব্যক্তিগত ফোনালাপ আড়িপাতাসহ নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রমান্বয়ে মেজর থেকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
কে এই জিয়াউল আহসান?
জিয়াউল আহসান (জন্ম ১৯৭০, ঝালকাঠি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও স্কাই ডাইভার। কর্মজীবনে তিনি র্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং সর্বশেষ এনটিএমসি’র প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ১৫ বছর ধরে তিনি ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা।
এনটিএমসি’র দায়িত্ব: এনটিএমসি মূলত ফোনকল, ই-মেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টসহ সব ইলেকট্রনিক যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ, সংগ্রহ ও রেকর্ড করে থাকে।
কর্মজীবনের বিতর্ক: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গুম, খুন, ব্যক্তিগত ফোনালাপ আড়িপাতাসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি সমালোচিত হয়েছেন।
আয়নাঘর, ফোনালাপ ও জুলাই আন্দোলন
জিয়াউল আহসানকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কিত অভিযোগগুলো হলো:
‘আয়নাঘরের জনক’: কথিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে সেখানে বিরোধী মতাবলম্বীদের তুলে নিয়ে বছরের পর বছর গুম করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শাপলা চত্বরের ঘটনা: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
আড়িপাতা: এনটিএমসিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শুধু বিরোধীদলীয় নেতাই নন, সরকারদলীয় হাইপ্রোফাইল নেতা ও মন্ত্রীদেরও ব্যক্তিগত ফোনালাপ রেকর্ড করতেন।
সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনের সময় মন্ত্রিসভার সচিব, আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কয়েকজন মন্ত্রীর ফোনালাপ রেকর্ডের সারাংশ গণভবন থেকে উদ্ধার হয়, যেখানে আন্দোলন দমনে ইন্টারনেট বন্ধসহ নানা কৌশলের তথ্য উঠে আসে।
চাকরিচ্যুতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
বহুল আলোচিত ও প্রভাবশালী এই কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিনই ৬ আগস্ট এনটিএমসি’র মহাপরিচালক পদ থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ তাঁকে গুম ও খুনের ঘটনার অন্যতম কুশীলব দাবি করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলে আছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলার বিচার শুনানি চলছে।

























